নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া সবজি বিক্রেতা মীর কালামের পুরো পরিবার এখন চিরনিদ্রায় শায়িত। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফেরার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু হঠাৎ সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। স্বামীকে দাফনের কয়েকদিন পরেই স্ত্রী ও তিন সন্তানের দাফন হয়েছে একই কবরস্থানে।
দাফন সম্পন্ন
শনিবার (১৬ মে) সকালে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার উত্তর কনকদিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে। কয়েকদিন আগেই সেখানে দাফন করা হয়েছিল কালামকেও। এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উত্তর কনকদিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা মাঠে নিহত গৃহবধূ সায়মা বেগম (৩২), দুই মেয়ে মুন্নি (১০) ও কথা (৪) এবং একমাত্র ছেলে মুন্নার (৭) জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় পটুয়াখালী-৪ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়-স্বজন ও সহস্রাধিক মুসল্লি অংশ নেন। পরে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
শোকের মাতম
এর আগে শনিবার ভোর ৪টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা থেকে চারজনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের মাতম নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। গ্রামের মানুষ শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভিড় করেন কালামদের বাড়িতে।
পরিবারের ইতিহাস
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ৩০ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন মীর কালাম (৩৫)। জীবিকার তাগিদে সবজি বিক্রি করতেন তিনি। অল্প আয়ে কষ্টের সংসার হলেও স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সুখেই দিন কাটছিল তার। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে কালাম ছিলেন দ্বিতীয়।
বিস্ফোরণের ঘটনা
গত ১০ মে সকালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার গিরিধারা এলাকায় ভাড়া বাসায় হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, তিতাস গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ঘরে জমে থাকা গ্যাসে আগুনের সূত্রপাত হয়। বিস্ফোরণে কালাম, তার স্ত্রী ও তিন সন্তান মারাত্মক দগ্ধ হন। দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে সোমবার প্রথমে মারা যান মীর কালাম। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে মারা যান স্ত্রী সায়মা। একে একে মৃত্যু হয় তাদের তিন শিশুসন্তানেরও। চিকিৎসকদের ভাষ্য, দগ্ধদের শরীরের অধিকাংশ অংশ পুড়ে যাওয়ায় তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পরিবারের শেষ
নিহত মীর কালামের ভাই রফিক মিয়া বলেন, ‘কালাম অনেক কষ্ট করে সংসার চালাইত। পরিবারটাই ছিল তার সব। আগুনে দগ্ধ হওয়ার পর মঙ্গলবার তাকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। পরে একে একে তার স্ত্রী ও সন্তানরাও মারা গেল। এখন পুরো পরিবারটাই শেষ হয়ে গেল।’
প্রশাসনের সহায়তা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।



