আসন্ন ঈদুল আজহায় মুক্তি পেতে যাওয়া নিজের নতুন সিনেমা ‘সাইকো’কে আন্তর্জাতিক মানের এক সৃষ্টি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এর প্রযোজক ও প্রধান অভিনেত্রী মীরা। সিনেমাটি বলিউড এবং হলিউডের যেকোনো সিনেমার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম বলে দাবি করেছেন তিনি।
মীরার আত্মবিশ্বাস
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউজ’ শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে মীরা বলেন, তিনি নিশ্চিত যে সিনেমাটি ৫০০ কোটি রুপির বেশি ব্যবসা করবে এবং জনপ্রিয়তার নতুন রেকর্ড গড়বে।
মীরা আরও জানান, যদি এই সিনেমার সিক্যুয়েল ‘সাইকো ২’ নির্মাণ করা হয়, তবে এর শুটিং হবে করাচিতে। নিজের চরিত্রটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, অভিনয়ের সময় তিনি চরিত্রের মধ্যে এতটাই ডুবে গিয়েছিলেন যে নিজেকে বিশ্বের ‘সবচেয়ে বড় সাইকো’ মনে হতে শুরু করেছিল। চরিত্রটিকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি তার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলেছিল।
সংবাদ সম্মেলন ও ঘোষণা
সিনেমার প্রচারণার অংশ হিসেবে করাচিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন এবং জিও টিভির সঙ্গে আলাপকালে মীরা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রবীণ অভিনেতা মুস্তফা কোরেশীও উপস্থিত ছিলেন। থ্রিলার, সাসপেন্স, অ্যাকশন ও অ্যাডভেঞ্চার ঘরানার এই সিনেমার মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে ‘জিও ফিল্মস’।
মীরা আরও বলেন, পাকিস্তানে মানসম্মত সিনেমা তুলনামূলক কম নির্মিত হলেও ‘সাইকো’ দেশটির চলচ্চিত্র শিল্পকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তিনি সব সময় ভালো কাজ করার চেষ্টা করেন এবং নতুনদের শেখার সুযোগ করে দেন বলেও জানান।
পরিচালক ও চরিত্র
সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন শান শহীদ। তার পরিচালনায় কাজ করাকে একটি অনন্য অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন মীরা।
চরিত্রটির জন্য জানপ্রাণ দিয়ে খেটেছেন জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, চরিত্রের তীব্রতার কারণে তিনি মানসিক চাপ ও বিষণ্নতায়ও ভুগেছেন। অভিনয় কোনো সহজ পেশা নয়, এর জন্য পূর্ণ নিষ্ঠা ও আবেগের প্রয়োজন। মীরার ভাষায়, ‘সাইকো’ কেবল একটি সিনেমা নয়; এটি পাকিস্তানের গৌরব, মর্যাদা ও পরিচয়ের প্রতীক। গুণগত মানের দিক থেকে এটি ভারতীয় ও হলিউড চলচ্চিত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা রাখে এবং এটি পাকিস্তানি দর্শকদের গর্বিত করবে বলে তিনি মনে করেন।
মুস্তফা কোরেশীর মন্তব্য
অনুষ্ঠানে প্রবীণ অভিনেতা মুস্তফা কোরেশী বলেন, ভারতে যদি ফুলন দেবীকে নিয়ে সিনেমা তৈরি হতে পারে, তবে ‘পাকি’কে নিয়েও সিনেমা বানানো সম্ভব। পাকির গ্রেফতারির বিষয়টিকে যেভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে, তা অনুচিত ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রয়েছে যা এভাবে মনোযোগ পায় না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পাঞ্জাবের প্রযোজকরা প্রায়শই রাজনৈতিক কারণে চলচ্চিত্র প্রকল্পের জন্য তহবিল পেয়ে থাকেন। সংবাদ সম্মেলনে চলচ্চিত্র শিল্পে অসামান্য অবদানের জন্য এই প্রবীণ অভিনেতাকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়।



