আড়াইহাজারে পাগলা কুকুরের কামড়ে অর্ধশতাধিক আহত
আড়াইহাজারে পাগলা কুকুরের কামড়ে অর্ধশতাধিক আহত

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে টানা দুই দিনে অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বগাদী, রামচন্দ্রদী ও জালাকান্দি গ্রামে হঠাৎ করে কুকুরটির আক্রমণে বহু মানুষ আহত হন। দুই দিন ধরে কুকুরটি সামনে যাকে পেয়েছে, তাকেই তাড়া করে কামড় দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে গ্রামবাসী, বিশেষ করে তরুণ ও যুবকরা লাঠিসোঁটা হাতে পাহারায় বসেছেন।

কীভাবে ঘটলো এই ঘটনা?

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সকাল থেকে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত এই ঘটনা ঘটে। প্রথমে বগাদী গ্রামে পাঁচ বছরের শিশু জুবায়েরকে কামড়ায় কুকুরটি। এরপর দ্রুত পাশের রামচন্দ্রদী ও জালাকান্দি গ্রামে ঢুকে পড়ে। পথে যাকে সামনে পেয়েছে, তাকেই আক্রমণ করেছে। একপর্যায়ে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিশোর ও তরুণদের লাঠি হাতে চলাফেরা করতে দেখা গেছে।

আহতদের তালিকা

আহতদের মধ্যে জুবায়ের (৫), জান্নাতুল ফেরদৌস (৩২), কুলসুম (৪০), ডলি (৪৫), রায়হান (২০), জাহাঙ্গীর (৪০), ওমর আলী (৭০), সাগরিকা (৩০), ফাতেমা (৩৫) ও হাওয়া (৩০) উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া আরও অনেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের বক্তব্য

বগাদী গ্রামের বাসিন্দা আবদুল্লাহ বলেন, 'হঠাৎ দেখি কুকুরটি ছোটাছুটি করছে আর যাকে পাচ্ছে তাকেই কামড়াচ্ছে। মানুষ দৌড়ে ঘরে ঢুকে পড়ে। শিশুরা ভয়ে কাঁদছিল।' রামচন্দ্রদী গ্রামের বাবুল বলেন, 'আমার সন্তানদের বাইরে যেতে দিচ্ছি না। গ্রামের সবাই আতঙ্কে আছে।' জালাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মোশাররফ মাস্টার বলেন, 'আমরা কয়েকজন মিলে কুকুরটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেটি খুব আক্রমণাত্মক ছিল।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসা ও কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ

আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শিমুল বলেন, 'দুই দিনে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক রোগী এসেছেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে এনে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে এবং জলাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকার জাতীয় জলাতঙ্ক প্রতিরোধ ও গবেষণা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।' উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতাউর রহমান বলেন, 'আদালতের নির্দেশনার কারণে নির্বিচারে কুকুর নিধন করা যায় না। তবে কুকুরের টিকাদান ও জনসচেতনতা কার্যক্রম চলছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।' আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জানান, 'আমরা কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন হাসপাতাল থেকে দিচ্ছি। আশা করি সঠিক চিকিৎসা দিতে পারবো।'