ইসরাইলের তালিকায় শীর্ষ ১০ 'ইহুদিবিদ্বেষী' প্রভাবশালী ব্যক্তি, সমালোচনা ও জনমতের লড়াই
ইসরাইলের 'ইহুদিবিদ্বেষী' প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ

ইসরাইলের তালিকায় শীর্ষ ১০ 'ইহুদিবিদ্বেষী' প্রভাবশালী ব্যক্তি: সমালোচনা ও জনমতের লড়াই

ইসরাইলের ডায়াসপোরা বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের জন্য বিশ্বের শীর্ষ ১০ 'ইহুদিবিদ্বেষী ও জায়নবাদবিরোধী' প্রভাবশালী ব্যক্তির একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যাদের কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক পদ নেই, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশাল অনুসারী থাকায় তারা জনমতের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে সক্ষম। তালিকায় স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ধরন, তীব্রতা এবং তাদের মাধ্যমে তৈরি হওয়া 'ঝুঁকি' বিবেচনা করা হয়েছে।

তালিকার শীর্ষে মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার ও পরিবেশবাদী কর্মী

এই তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছেন মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার ড্যান বিলজেরিয়ান। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন পরিবেশবাদী আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থানবার্গ, যিনি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় বেশ সরব ভূমিকা পালন করছেন। তালিকার শীর্ষ দশে মার্কিন নাগরিকদের প্রাধান্য লক্ষ্য করা গেছে, যার মধ্যে রয়েছেন আলোচিত সাংবাদিক টাকার কার্লসন, ক্যান্ডাস ওয়েন্স এবং অতি-ডানপন্থী কর্মী নিক ফুয়েন্তেস। এছাড়া ব্রিটিশ-ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আবদেল বারি আতওয়ান এই তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছেন।

ইসরাইলি মন্ত্রণালয়ের দাবি ও তীব্র সমালোচনা

ইসরাইলি মন্ত্রণালয়ের দাবি, এই ব্যক্তিরা তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ইহুদিবিদ্বেষী এবং ইসরাইলবিরোধী বক্তব্য প্রচার করছেন। তবে এই তালিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন এতে নাম থাকা সাংবাদিক আবদেল বারি আতওয়ান। তিনি আরটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইসরাইল সরকার মূলত রাষ্ট্রীয় নীতির সমালোচনা এবং প্রকৃত ইহুদিবিদ্বেষকে এক করে ফেলছে। নিজেকে একজন 'সেমিটিক' দাবি করে তিনি জানান, গাজা, লেবানন বা ইরানে ইসরাইলি যুদ্ধের বিরোধিতা করা মানেই ইহুদিদের ঘৃণা করা নয়। তার মতে, ইসরাইলকে সমালোচনার ঊর্ধ্বে রাখার এই প্রচেষ্টা অত্যন্ত ভীতিকর।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা বৃদ্ধি

সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, বিশেষ করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সাথে সংঘাত শুরুর পর থেকে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেও ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা বাড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যানুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকান এখন ইসরাইল সম্পর্কে বিরূপ ধারণা পোষণ করেন, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। এমন প্রেক্ষাপটে ইসরাইল এই তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে জনমত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এই তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে ইসরাইল কীভাবে আন্তর্জাতিক জনমতকে প্রভাবিত করতে চাইছে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে ইসরাইল সমালোচকদের চিহ্নিত করে তাদের বক্তব্যকে দমন করার চেষ্টা করছে। তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে, বিশেষ করে যখন নাম থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের অবস্থানকে ন্যায্য বলে দাবি করছেন।