ট্রাম্পের দাবি: ইরানের সব ইউরেনিয়াম পাবে যুক্তরাষ্ট্র, কোনো অর্থ দিতে হবে না
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি বিস্ফোরক ঘোষণা দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে, তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে জানান যে ইরান তাদের কাছে থাকা সমস্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে রাজি হয়েছে। ট্রাম্প এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে ‘পারমাণবিক ধুলো’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা এই পদার্থের গুরুত্ব ও ঝুঁকি তুলে ধরে।
চুক্তির শর্তাবলী: কোনো আর্থিক লেনদেন নেই
এই চুক্তির শর্তাবলী স্পষ্ট করে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিনিময়ে ইরানকে কোনোভাবেই কোনো অর্থ দেওয়া হবে না। অর্থাৎ, কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন ছাড়াই এই বিশাল পরিমাণ তেজস্ক্রিয় পদার্থ ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণে আসবে। এটি একটি অস্বাভাবিক পদক্ষেপ, যা পারমাণবিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সমঝোতা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র: লেবাননের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই
এছাড়া ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে এই সমঝোতাটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র একটি বিষয়। লেবাননের যুদ্ধবিরতি বা সেখানকার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সঙ্গে এই চুক্তির কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটি কোনো শর্তের ওপর নির্ভর করছে না। এই দাবি ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলাদাভাবে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে কাজ করতে চাইছে, যা আঞ্চলিক রাজনীতির প্রভাব থেকে মুক্ত।
এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকে এটিকে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এর বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। সূত্র হিসেবে আলজাজিরার প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই খবরের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করে।



