হরমুজ প্রণালি বন্ধ না করার বিষয়ে ইরানের সম্মতির দাবি ট্রাম্পের
পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আর কখনও বন্ধ না করার বিষয়ে ইরান রাজি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এমন কোনও ধরনের আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা বা প্রতিশ্রুতি দেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি, যা এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
বিশ্ব তেল সরবরাহ ও অর্থনীতিতে প্রভাব
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ প্রতিদিন এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। সম্প্রতি এই পথে ট্যাঙ্কার চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হরমুজ প্রণালির স্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও মূল্যস্ফীতি
এশীয় ও ইউরোপীয় দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরের জ্বালানির ওপর অনেক কম নির্ভরশীল হলেও, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার প্রভাবে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মাসিক মূল্যস্ফীতি রেকর্ড করা হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই অঞ্চলের অস্থিরতা সরাসরি মার্কিন অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।
ইরানের ঘোষণা ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্সে ঘোষণা করেছিলেন যে, চলমান দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ করা হয়েছে। ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ইরানকে ধন্যবাদ জানালেও, দেশটির ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এই অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সামগ্রিকভাবে, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং ইরান-মার্কিন সম্পর্কের উন্নয়ন এর উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।



