ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্য: ইরানের নেতারা আলোচনার জন্য বেঁচে আছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে ইরানের নেতারা এখনও বেঁচে আছে শুধুমাত্র আলোচনার জন্য। তিনি শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে লিখেছেন, 'ইরানের হাতে কোনো কার্ড নেই। তারা শুধু আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ন্ত্রণ করে সাময়িকভাবে বিশ্বকে জিম্মি করে রাখছে। ইরানের নেতারা এখনও বেঁচে আছে শুধু আলোচনার জন্য।' এই মন্তব্য ইরানের সাথে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে এসেছে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।
ইসলামাবাদে আলোচনা: দল ও শর্তাবলি
ইরানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ইসলামাবাদে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন দলের নেতৃত্বে আছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যার সাথে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জারেড কুশনার। আলোচনায় উঠে আসার সম্ভাব্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ইরানের প্রায় ৪৫০ কিলোগ্রাম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর
- হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য খুলে দেওয়া
- আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন বন্ধ করা
- ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা
পাল্টা দাবি হিসেবে ইরান চায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক, যা তাদের তেল ও গ্যাস রপ্তানির কোটি কোটি ডলার বিদেশি ব্যাংকে আটকে রাখার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের শর্ত ও ট্রাম্পের সংশয়
ইরান অবশ্য এখনই আলোচনায় বসতে রাজি নয়। গালিবাফ এক্সে লিখেছেন, 'দুটি বিষয়ে আগেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে: লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের আটকে পড়া সম্পদ ছেড়ে দেওয়া।' তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই দুটি কাজ না হলে আলোচনা শুরু হবে না। অন্যদিকে, ট্রাম্প ইরানের সাথে কোনো চুক্তি হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, 'আমরা জানি না তারা সত্যি বলছে কিনা। সামনে এসে বলছে সব পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে দেবে, আবার বাইরে গিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে চায়।'
মার্কিন প্রস্তুতি ও হোয়াইট হাউসের আশাবাদ
এর আগে নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের আলোচনা ব্যর্থ হলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ আবার হামলা শুরু করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, 'আমরা প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জানতে পারব।' তবে হোয়াইট হাউস আশাবাদী অবস্থান বজায় রেখেছে। মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশাবাদী যে একটি চুক্তি সম্ভব।' তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে 'স্থায়ী শান্তি' প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাই একসাথে কাজ করছেন।
এই আলোচনা বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে চলমান সংকটের সমাধান করতে পারে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি এবং ইরানের শর্তাবলি আলোচনার ফলাফলকে অনিশ্চিত করে তুলছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর রাখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



