ইরানের কঠোর জবাব: ট্রাম্পকে 'অস্থির ও বিকারগ্রস্ত' আখ্যা দিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির প্রতি ইরান কঠোর জবাব দিয়েছে। দেশটির সংস্কৃতিমন্ত্রী সৈয়দ রেজা সালিহি-আমিরি ট্রাম্পকে একজন 'অস্থির ও বিকারগ্রস্ত ব্যক্তি' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ট্রাম্পের ব্যক্তিত্ব নিয়ে ইরানের সমালোচনা
সালিহি-আমিরি বলেন, ইরানের সমাজ সাধারণত ট্রাম্পের বক্তব্যে কান দেয় না। কারণ মানুষ বিশ্বাস করে যে তার ব্যক্তিগত, আচরণগত ও বাচনিক ভারসাম্য নেই। তিনি প্রতিনিয়ত নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন, যা একটি অস্থিরতার লক্ষণ। ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে এক রহস্যময় 'প্রপঞ্চ' হিসেবে বর্ণনা করে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, হরমুজ প্রণালি 'বিশ্বের জন্য উন্মুক্ত হলেও ইরানের শত্রুদের জন্য বন্ধ' রাখা হবে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি
রবিবার এক অশালীন বার্তায় ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, সোমবারের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে মঙ্গলবার ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতে হামলা চালানো হবে। তিনি ইরানকে 'নরকের মধ্যে' বসবাসের স্বাদ দেওয়ারও অঙ্গীকার করেন। এই হুমকির পর জাতিসংঘে ইরানের মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পাল্টা বার্তা দিয়েছে। তারা বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার এই প্রকাশ্য হুমকিকে 'বেসামরিকদের আতঙ্কিত করার প্ররোচনা' এবং 'যুদ্ধাপরাধ করার স্পষ্ট অভিপ্রায়' হিসেবে বর্ণনা করেছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান
ইরানের মিশন আরও বলেছে, "আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখনই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। আগামীকাল অনেক দেরি হয়ে যাবে।" এই মন্তব্যে ইরান বিশ্ব সম্প্রদায়কে দ্রুত হস্তক্ষেপের জন্য আহ্বান জানিয়েছে, যাতে উত্তেজনা আরও না বাড়ে।
ইরানের শর্ত ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র সৈয়দ মোহাম্মদ মেহেদী তাবাতাবাই জানিয়েছেন, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ট্রানজিট রাজস্বের একটি অংশ ইরানকে দেওয়ার শর্তেই কেবল এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব। এই শর্তটি ইরানের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংকট সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জরুরি হয়ে পড়েছে।



