মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের পর থেকে অস্ট্রিয়া মার্কিন সামরিক বিমান ওভারফ্লাইট অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে
মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে অস্ট্রিয়া তার দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষতা নীতির অংশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান ওভারফ্লাইট অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বৃহস্পতিবার এএফপি সংবাদ সংস্থাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অস্ট্রিয়ার নিরপেক্ষতা নীতির কঠোর অবস্থান
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল মাইকেল বাউয়ার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, "প্রকৃতপক্ষে অনুরোধ এসেছিল এবং সেগুলো শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।" তিনি আরও যোগ করেছেন যে, প্রতিবারই যখন অনুরোধের সাথে যুদ্ধরত কোনো দেশ জড়িত থাকে, তখন সেটি অস্বীকার করা হয়।
অস্ট্রিয়া ১৯৫৫ সাল থেকে একটি নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে পরিচিত। দেশটি উত্তরে, দক্ষিণে এবং পূর্বে ন্যাটো সদস্য দেশ দ্বারা বেষ্টিত, পশ্চিমে রয়েছে নিরপেক্ষ সুইজারল্যান্ড। এই ভৌগোলিক অবস্থান সত্ত্বেও অস্ট্রিয়া তার নিরপেক্ষতা নীতিতে অটল রয়েছে।
ইউরোপীয় দেশগুলোর অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের ধারাবাহিকতা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে আটলান্টিক জোটের ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলোর সমালোচনা করেছিলেন, বিশেষ করে ফ্রান্স এবং স্পেনের, যারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছিল।
মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে, সুইজারল্যান্ডও তার নিরপেক্ষতা নীতি উল্লেখ করে জানিয়েছিল যে তারা তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। এই ঘটনাটি ইউরোপের নিরপেক্ষ দেশগুলোর মধ্যে একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
অস্ট্রিয়ার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং নিরপেক্ষতা নীতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দেশটি যুদ্ধ বা সংঘাতে জড়িত কোনো পক্ষকে সমর্থন না দেওয়ার তার ঐতিহাসিক অবস্থান বজায় রেখেছে।



