লেবাননে ইউনিফিলের ওপর ইসরায়েলি হামলায় ফ্রান্সের তীব্র নিন্দা
লেবাননে নিয়োজিত জাতিসংঘ অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনীর (ইউনিফিল) ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক বর্বরোচিত হামলায় নিহত ও আহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ফ্রান্স। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট এই ঘটনাকে 'অগ্রহণযোগ্য ও অমার্জনীয়' অভিহিত করে অবিলম্বে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
সোমবার (৩০ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স'-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। বিবৃতিতে তিনি জানান, গত ২৯ মার্চ ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিবর্ষণে ইন্দোনেশিয়ার একজন শান্তিরক্ষী নিহত এবং তিনজন আহত হন। এর রেশ কাটতে না কাটতেই ৩০ মার্চ পৃথক এক বিস্ফোরণে আরও দুই ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষী প্রাণ হারান এবং দুইজন গুরুতর আহত হন।
এছাড়া লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় গ্রাম 'বানি হাইয়ান'-এর কাছে অজ্ঞাত উৎস থেকে আসা এক শক্তিশালী বিস্ফোরণে শান্তিরক্ষীদের একটি যানবাহন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে ইউনিফিল। এই ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
ফ্রান্সের কঠোর প্রতিক্রিয়া ও পদক্ষেপ
নাপুরা এলাকায় দায়িত্বরত ফরাসি শান্তিরক্ষী কন্টিনজেন্টের ওপর ইসরায়েলি সেনাদের ভীতি প্রদর্শন ও নিরাপত্তা হুমকির ঘটনায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে প্যারিস। জঁ-নোয়েল বারোট বলেন, 'ইসরায়েলি সেনাদের এই ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কাজ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না, বিশেষ করে যেখানে সংঘাত নিরসনের আন্তর্জাতিক প্রোটোকলগুলো যথাযথভাবে মানা হচ্ছিল।'
এই ঘটনার প্রতিবাদে প্যারিসে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সর্বোচ্চ কঠোর ভাষায় ফ্রান্সের নিন্দা ও সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সের পক্ষ থেকে সকল পক্ষকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব কঠোরভাবে মেনে চলার এবং জাতিসংঘ কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার আহ্বান
বারোট স্পষ্ট করে বলেন, 'ইউনিফিলকে তাদের ম্যান্ডেট বা অর্পিত দায়িত্ব পূর্ণাঙ্গভাবে পালন করতে দিতে হবে এবং তাদের অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।' তিনি আরও জোর দেন যে, এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে।
নিহত শান্তিরক্ষীদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে ইন্দোনেশিয়ার সাথে সংহতি প্রকাশ করেছে ফ্রান্স। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে, যেখানে শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।



