মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি: ইরানের নৌবাহিনী ও প্রতিরক্ষা শিল্পে অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেছেন যে, ইরানের নৌবাহিনী এবং দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প কাঠামোতে অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছে। সোমবার (৩১ মার্চ) এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন, যেখানে ওয়াশিংটন তার লক্ষ্য অর্জনে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ সময় নেবে বলে উল্লেখ করেছেন।
ইরানের সক্ষমতা ধ্বংসের হুমকি
মার্ক রুবিও বলেন, "আমরা ইরানের নৌবাহিনী এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার বড় একটি অংশ ধ্বংস করে দিচ্ছি। তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের ভিত্তি আমরা গুঁড়িয়ে দেব, যাতে ভবিষ্যতে তারা আর কোনো নতুন ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন তৈরি করতে না পারে।" তিনি ইরানের সক্ষমতা বৃদ্ধিকে ‘অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি’ হিসেবে অভিহিত করে সতর্ক করেছেন যে, বর্তমানে ইরান তার ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বলতম অবস্থানে রয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে তেহরানের আধিপত্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্ক রুবিও। তিনি বলেন, "ইরান সেখানে টোল আদায় বা চিরস্থায়ী নিয়ন্ত্রণের যে হুমকি দিচ্ছে, তা সফল হতে দেওয়া হবে না। মার্কিন যুদ্ধ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।" প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকি দিয়ে রেখেছেন যে, দ্রুত কোনো চুক্তি না হলে বা হরমুজ প্রণালী ব্যবসার জন্য খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তেলকূপ এবং খার্গ দ্বীপে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।
ইরানের জবাব: সরাসরি আলোচনা হয়নি
এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিপরীতে মুখ খুলেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের এখন পর্যন্ত কোনো ‘সরাসরি’ আলোচনা হয়নি। তবে বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওয়াশিংটন আলোচনার প্রস্তাব পাঠিয়েছে। মার্কিন কূটনীতির প্রতি বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবির ওপর বৈশ্বিক আস্থা খুবই সীমিত।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা গোটা বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে গভীর উদ্বেগের মুখে ফেলেছে। সম্প্রতি ফিনান্সিয়াল টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে, তবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, গত শনিবার ইসলামাবাদে পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের মধ্যকার চারপক্ষীয় বৈঠকে তারা অংশ নেয়নি।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান সংঘাত দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখছে, যেখানে তেহরান আলোচনার পথ খোলা রেখেছে কিন্তু সরাসরি বৈঠক এড়িয়ে চলছে।



