টেক্সাস সম্মেলনে ইরানের যুবরাজের সরকার পরিবর্তনের আহ্বান
ইরানের সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই দেশটির নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রের একটি ডানপন্থি সম্মেলনে নিজেকে একটি সম্ভাব্য বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। শনিবার (২৮ মার্চ) টেক্সাসে অনুষ্ঠিত কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সে (সিপিএসি) তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক সমঝোতা না করে বরং সরাসরি সরকার পরিবর্তনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
পাহলভির বক্তব্যে করতালি ও সমর্থন
তার বক্তৃতায় পাহলভি উল্লেখ করেন, ‘ভাবতে পারেন, ‘ডেথ টু আমেরিকা’ থেকে ইরান যদি ‘গড ব্লেস আমেরিকা’-তে পৌঁছে যায়?’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকাকে আবার মহান করছেন। আমিও ইরানকে আবার মহান করতে চাই।’ এই মন্তব্যের পর উপস্থিত শ্রোতারা দাঁড়িয়ে করতালি দেন এবং কিছু অংশ ‘লং লিভ দ্য কিং’ স্লোগান দিতে থাকেন, যা তার রাজতান্ত্রিক অতীতের প্রতি সমর্থন নির্দেশ করে।
হামলার প্রেক্ষাপটে পাহলভির অবস্থান
পাহলভির এই আহ্বান এমন এক সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানে গত এক মাসে অন্তত ১,৯৩৭ জন নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। প্রবাসী ইরানিদের মধ্যে পাহলভি এখন একটি শক্তিশালী বিরোধী কণ্ঠ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, যার সমর্থকরা বিভিন্ন বিক্ষোভে তার ছবি এবং ইরানের প্রাক-বিপ্লব যুগের পতাকা বহন করে থাকে।
তবে প্রবাসী ইরানিদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই হামলা এবং এর ফলে ইরানের ভবিষ্যতের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, পাহলভি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতির সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেছেন, ‘এই শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি সরাতে হবে।’ তার এই অবস্থান তাকে ইরানের বর্তমান সরকারের প্রতি মার্কিন নীতির একটি মুখপাত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, বিশেষত ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির দিকগুলো নিয়ে। পাহলভির বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তিনি ইরানে একটি রাজতান্ত্রিক বা প্রো-পশ্চিমা সরকার পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কাজ করছেন, যা বর্তমান শাসনব্যবস্থার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, এই সম্মেলনটি ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে, যেখানে পাহলভির ভূমিকা একটি কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।



