দাসত্ব ও নিপীড়ন নির্মূলে বৈশ্বিক উদ্যোগের জোরালো আহ্বান বাংলাদেশের
দাসত্ব ও সকল প্রকার নিপীড়ন নির্মূলের লক্ষ্যে জোরদার বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (২৬ মার্চ) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ‘আন্তর্জাতিক দাসত্ব ও ট্রান্স-আটলান্টিক দাস বাণিজ্যের শিকারদের স্মরণে’ আয়োজিত এক স্মারক সভায় এ আহ্বান জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি দাসত্ব ও ট্রান্স-আটলান্টিক দাস বাণিজ্যের লাখ লাখ শিকারদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং স্বাধীনতা ও ন্যায়ের জন্য সংগ্রাম করা সাহসী মানুষের অদম্য মনোবলের প্রশংসা করেন।
ট্রান্স-আটলান্টিক দাস বাণিজ্যের স্থায়ী প্রভাব
ড. খলিলুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, ট্রান্স-আটলান্টিক দাস বাণিজ্য মানবজাতির ইতিহাসে এক গভীর ও স্থায়ী দাগ রেখে গেছে। দাসত্ব, বর্ণবাদ, গণহত্যা এবং সকল প্রকার নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দৃঢ় ও অটল অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সংবিধান সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, বর্ণবাদ ও বৈষম্যকে প্রত্যাখ্যান করে এবং শোষিত জনগণের প্রতি দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯২৬ সালের দাসত্ব সংক্রান্ত কনভেনশন এবং প্রায় ৮০ বছর আগে গৃহীত মানবাধিকার সনদ দাসত্বকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যদিও দাসত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হয়েছে, এর প্রভাব আজও সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক কাঠামোয় স্পষ্টভাবে বিদ্যমান।
দাসত্ব প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব
ড. খলিলুর রহমান মানব পাচার প্রতিরোধ, ডিজিটাল ফরেনসিক সমন্বয় এবং দাসত্ব ও দাস বাণিজ্যের মানবিক ও সভ্যতাগত ক্ষতির বিষয় সম্পর্কে শিক্ষাব্যবস্থা ও সংলাপে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ গড়তে হবে।
পাশাপাশি, তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একত্রিত হয়ে এমন একটি বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানান, যেখানে দাসত্ব, বৈষম্য ও অন্যায়ের কোনো স্থান থাকবে না এবং মানব মর্যাদা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, শান্তি ও ন্যায়ভিত্তিক বিশ্ব গঠনে সকল দেশের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।



