রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন প্রতিমন্ত্রী
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বুধবার তার কার্যালয়ে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রিজেনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র কার্যকর সমাধান হলো মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। তিনি ইউএনএইচসিআরের রোহিঙ্গা রেসপন্স প্ল্যানের নেতৃত্বে চলমান সহায়তার জন্য সংস্থাটির প্রশংসা করেন।
মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ভাসানচর ও কক্সবাজারে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ইউএনএইচসিআর ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে ব্যবহারিক পথ অনুসন্ধানের কাজ চালিয়ে যাবে। তিনি জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) এর অধীনে জরুরি মানবিক প্রয়োজন, যেমন খাদ্য, ওষুধ, পানি, স্যানিটেশন ও শিক্ষার জন্য ইউএনএইচসিআরের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
দুই পক্ষই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য যৌথ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধির প্রশংসা
ইউএনএইচসিআরের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রিজেন বাংলাদেশকে বহু বছর ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি সংস্থাটির পক্ষ থেকে মানবিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সমর্থন দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। ফ্রিজেন বলেন, "বাংলাদেশের উদারতা ও সহযোগিতা বিশ্বব্যাপী প্রশংসার দাবিদার। আমরা এই সংকট সমাধানে আমাদের প্রচেষ্টা জোরদার করব।"
এই বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে অর্থায়নের ঘাটতি মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে অগ্রসর হওয়ার উপায়গুলো নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন।
বৈঠকের শেষে দুই পক্ষ রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। তারা একমত হন যে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও মানবিক সহায়তার সমন্বয় ঘটানো এই জটিল সমস্যা সমাধানের জন্য অপরিহার্য। বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও ইউএনএইচসিআরের সহযোগিতা এই সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।



