শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ইরানি জাহাজ থেকে ২০৮ জন ক্রু উদ্ধার করেছে
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেছেন যে, আইআরআইএস বুশেহর নামের একটি ইরানি জাহাজ থেকে ২০৮ জন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে। জাহাজটি শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরের নিকটবর্তী এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন এলাকায় নোঙর করেছিল।
উদ্ধার প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিবরণ
প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে জানান, জাহাজটি শ্রীলঙ্কার জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি চেয়েছিল এবং ইরানি দূতাবাস ও শ্রীলঙ্কা সরকারের মধ্যে আলোচনার পর জাহাজের অধিনায়ক ক্রুদের উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, "সেই অনুযায়ী আমাদের নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ওই জাহাজের কাছে পৌঁছেছে এবং ক্রুদের উদ্ধারকাজে নিযুক্ত রয়েছে।"
উদ্ধারকৃত ক্রুদের মধ্যে রয়েছে:
- ৫৩ জন কর্মকর্তা
- ৮৪ জন ক্যাডেট
- ৪৮ জন সিনিয়র নাবিক
- ২৩ জন নাবিক
প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করেন, "আমরা এখন ওই ২০৮ জনকে জাহাজ থেকে আমাদের নৌযানে নিয়ে এসে কলম্বো বন্দরে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এরপর ওই জাহাজের ক্রু ও আমাদের নাবিকদের ত্রিনকমালি বন্দরের এলাকায় নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।"
পূর্ববর্তী হামলার প্রেক্ষাপট
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে, গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে আইআরআইএস দেনা নামের আরেকটি ইরানি জাহাজ হামলার শিকার হয়। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে যে, তারা সাবমেরিন টর্পেডো দিয়ে আঘাত করে জাহাজটি ডুবিয়ে দেয়। সেই জাহাজ থেকে সাহায্যের আবেদন জানানোর পর শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ৩২ জনকে উদ্ধার করে এবং তাদের চিকিৎসার জন্য গালে জাতীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ জানান, আইআরআইএস দেনা জাহাজে প্রায় ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন এবং পরে নিখোঁজ ৮৪ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। মৃতদেহগুলো গালে জাতীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনাটি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
শ্রীলঙ্কার দ্রুত ও কার্যকরী উদ্ধার অভিযান আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে জাহাজের ক্রুদের নিরাপদে তীরে আনার ক্ষেত্রে। এই ঘটনাটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার গুরুত্বকে আরও তুলে ধরে।



