ট্রাম্পের বাণিজ্য বন্ধের হুমকি, স্পেনের 'শ্রদ্ধাশীল' জবাব
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের বিরুদ্ধে সমস্ত বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছেন। এই হুমকির পেছনে কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলায় স্পেনের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ার ঘটনা। স্পেন সরকার ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে 'শ্রদ্ধাশীল' মনোভাব প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি মেনে চলার তাগিদ দিয়েছে।
ঘাঁটি ব্যবহারে অস্বীকৃতি ও ট্রাম্পের ক্ষোভ
শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কর্তৃক ইরানে চালানো হামলাকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানান। তিনি সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'কোনো ঘৃণ্য শাসনের বিরোধিতা করা যেমন সম্ভব, তেমনি একটি অযৌক্তিক ও বিপজ্জনক সামরিক হস্তক্ষেপেরও বিরোধিতা করা সম্ভব।' পরের দিন সোমবার স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে মানুয়েল আলবারেস স্পষ্ট করে দেন যে, মাদ্রিদ সরকার ইরানে হামলার জন্য দেশটির কোনো সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেবে না।
স্পেনের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের বলেন, 'স্পেন খুব খারাপ আচরণ করেছে। কারণ তারা মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি। আমরা স্পেনের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধ করে দেব। স্পেনের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না।' এর আগে যুক্তরাষ্ট্র স্পেনের রোটা ও মোরন ঘাঁটি থেকে জ্বালানি ট্যাঙ্কারসহ ১৫টি বিমান সরিয়ে নিয়েছে।
স্পেনের দৃঢ় প্রতিক্রিয়া ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট
ট্রাম্পের হুমকির জবাবে স্পেন সরকার মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক আইন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। স্পেনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়:
- যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলায় তাদের প্রয়োজনীয় সম্পদ রয়েছে।
- যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ইউরোপীয় ইউনিয়ন-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি মেনে চলতে হবে।
এটি প্রথমবার নয় যে স্পেন ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করেছে। ২০২৪ সালে সানচেজ ইসরাইলে অস্ত্র বহনকারী জাহাজকে স্পেনে নোঙর করতে দিতে অস্বীকৃতি জানান। এছাড়া ২০৩৫ সালের মধ্যে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার মার্কিন আহ্বানও স্পেন প্রত্যাখ্যান করেছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে স্পেন বিশ্বের শীর্ষ অলিভ অয়েল রপ্তানিকারক দেশ। পাশাপাশি তারা যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির যন্ত্রাংশ, ইস্পাত ও রাসায়নিক পণ্য রপ্তানি করে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক চাপের হুমকির ক্ষেত্রে স্পেন অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০২৫ সালে টানা চতুর্থ বছরের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রেরই উদ্বৃত্ত ছিল, যা ৪.৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন রপ্তানি ছিল ২৬.১ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ছিল ২১.৩ বিলিয়ন ডলার।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। স্পেনের দৃঢ় অবস্থান ও ট্রাম্পের হুমকি ইউরোপ-মার্কিন সম্পর্কের উপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও চলছে জোরালো আলোচনা।
