ভেনেজুয়েলায় যাচ্ছেন ট্রাম্প, মাদুরো অপহরণের পর নতুন অধ্যায়
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ভেনেজুয়েলা সফরের ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষণা আসে মার্কিন সামরিক বাহিনী কর্তৃক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণের এক মাসেরও বেশি সময় পর। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে ট্রাম্প তার এই সফরের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত জানান।
ট্রাম্পের ঘোষণা ও নতুন সম্পর্কের মূল্যায়ন
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, 'আমি ভেনেজুয়েলা সফরে যাচ্ছি। ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো। তার নেতৃত্বেই তেল উত্তোলন ও বিপণনের ক্ষেত্রে দেশটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।' তিনি আরও যোগ করেন, 'ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ককে আমি দশে দশ দেবো।'
ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন, 'হ্যাঁ অবশ্যই, আমরা ইতোমধ্যে তা করেছি। আমরা নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং এই মুহূর্তে তারা খুব ভালোভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছে।'
ভেনেজুয়েলার সম্পদ ও মার্কিন নিয়ন্ত্রণ
ভেনেজুয়েলা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল সম্পদে সমৃদ্ধ দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য কর্তৃপক্ষ সংস্থা ইআইএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার খনিগুলোতে কমপক্ষে ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। এটি বিশ্বের মোট তেল মজুতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। এছাড়াও দেশটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণের খনি বিদ্যমান।
মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অপহরণের পর ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের তদারকি এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র করবে। তিনি মার্কিন কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলন ও বিক্রয় ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়ারও ঘোষণা দেন। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করবে যুক্তরাষ্ট্র।
মাদুরো অপহরণ ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন
গত ৪ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মার্কিন সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সরকারি বাসভবন থেকে অপহরণ করা হয়। তাদের যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে নিয়ে আসা হয় এবং মাদক পাচারের অভিযোগে ফেডারেল আদালতে বিচারের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে তারা নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
মাদুরো অপহরণের কয়েক ঘণ্টা পর ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন মাদুরো সরকারের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। এই ঘটনা ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমূল পরিবর্তন এনেছে।
ট্রাম্প-মাদুরো সম্পর্কের ইতিহাস
বামপন্থি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক সর্বদা উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। ২০১৬ সালে প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। ট্রাম্পের উত্তরসূরি জো বাইডেনের শাসনামলেও এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প।
এই সফর ও সম্পদ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশ্ব রাজনীতিতে এই উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
