জাতিসংঘের অভিনন্দন: শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে ধন্যবাদ
জাতিসংঘের অভিনন্দন: শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য বাংলাদেশ

জাতিসংঘের অভিনন্দন: শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে ধন্যবাদ

শান্তিপূর্ণভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে পূর্ণ সমর্থন এবং সহায়তা প্রদানের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।

নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখপাত্রের বক্তব্য

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফান ডুজারিক এই অভিনন্দন ও প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ‘সংসদ সদস্য নির্বাচন ও গণভোটের জন্য আমরা অবশ্যই বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানাই। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যত গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে সমর্থন করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি অঙ্গীকার

মুখপাত্র ডুজারিক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘জাতিসংঘ বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় সংহতি জোরদার করা এবং মানবাধিকার ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আগ্রহী।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, জাতিসংঘ মহাসচিব সব সময় রাজনৈতিক অংশীদারদের জাতীয় সংহতি বজায় রাখার ওপর জোর দেন।

গুতেরেসের প্রত্যাশা হলো যে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখবে, মানবাধিকার ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সংস্কার বাস্তবায়ন করবে। এই বিষয়গুলো দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

রমজান উপলক্ষ্যে মহাসচিবের বার্তা

এদিকে, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, ইয়েমেন ও সুদান-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষ সংঘাত, ক্ষুধা, বাস্তুচ্যুতি ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।’ কঠিন ও বিভক্তির এই সময়ে তিনি রমজানের তাৎপর্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রত্যেক মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বিশ্বব্যাপী আহ্বান জানান।

এই বার্তায় গুতেরেস শান্তি, সহিষ্ণুতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন, যা বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল দেশের জন্য প্রাসঙ্গিক। জাতিসংঘের এই অবস্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও সামাজিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়।