তেলেঙ্গানার পৌর নির্বাচনে কংগ্রেসের চমকপ্রদ জয়
ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পৌরসভা ও পৌরনিগম নির্বাচনে শাসক দল কংগ্রেস বিপুল সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী রেভনাথ রেড্ডি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে তাঁর বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন, যা এই জয়ের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
নির্বাচনী ফলাফলের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
রাজ্যের ৭টি পৌরনিগম ও ১১৬টি পৌরসভার ভোট গত বুধবার অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পৌরসভার মোট ২,৫৮২টি ওয়ার্ডের ভোট গণনা শুরু হয় শুক্রবার, এবং শনিবার রাজ্য নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে। ফলাফল অনুযায়ী, কংগ্রেস ১,৩৪৬টি ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছে এবং ১১৬টি পৌরসভার মধ্যে ৮৩টিতে তাদের বিজয় হয়েছে।
রাজ্যের ৭টি পৌরনিগমের মধ্যে ৪টি কংগ্রেস একাই দখল করেছে, এবং সিপিআইয়ের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে তারা আরও একটি পৌরনিগম জিতেছে। দুটি পৌরনিগমে কোনো দলই এককভাবে গরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি, ফলে সেগুলো ঝুলন্ত বা ত্রিশঙ্কু অবস্থায় রয়েছে। এই দুই পৌরনিগমে বৃহত্তম দল হিসেবে বিজেপি এগিয়ে আছে।
অন্যান্য দলগুলোর অবস্থান
রাজ্যের সব পৌরসভা ও পৌরনিগমের মিলিত ওয়ার্ড সংখ্যা ২,৯৯৬টি। এর মধ্যে কংগ্রেস ১,৫৩৭টি ওয়ার্ড দখল করেছে। ভারত রাষ্ট্র সমিতি (বিআরএস) ৭৭২টি ওয়ার্ড জিতেছে এবং দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। বিজেপি তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে, তারা মাত্র ৩২৬টি ওয়ার্ড জিতেছে।
প্রভাবশালী দল অল ইন্ডিয়া মজলিস ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) খুবই দুর্বল ফলাফল দেখিয়েছে, আসাউদ্দিন ওয়েইসির নেতৃত্বাধীন দল মাত্র ৬৬টি ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য
২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিআরএসকে হারিয়ে কংগ্রেস তেলেঙ্গানায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্যের সাবেক শাসক দলে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কে সি আরের কন্যা কবিতা পারিবারিক বিবাদের জেরে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন, যা দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নির্দেশ করে।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের ১৭টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস ও বিজেপি ৮টি করে আসনে জয়ী হয়েছিল, হায়দরাবাদের আসনটি এআইএমআইএম জিতেছিল। বিআরএস একটিও আসন জিততে পারেনি। এই প্রেক্ষাপটে, পৌর নির্বাচনের ফল বিআরএসের জন্য সন্তোষজনক, কারণ তারা শুধু স্থিতিশীলতা ফিরে পায়নি, বরং বিজেপিকে পেছনে ফেলতে সক্ষম হয়েছে।
ব্যালটে ভোটের গুরুত্ব
এই নির্বাচনটি বিশেষভাবে লক্ষণীয়, কারণ এটি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এর পরিবর্তে ব্যালটে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিরোধী দলগুলি ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ এনে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন ব্যালটে করার দাবি জানিয়ে আসছিল, কিন্তু নির্বাচন কমিশন বারবার সেই দাবি অগ্রাহ্য করেছে। তেলেঙ্গানার পৌরভোট ব্যালটে করে বিজেপিকে তৃতীয় স্থানে ঠেলে দেওয়া রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
দক্ষিণ ভারতের অন্যান্য রাজ্যে কংগ্রেসের সাফল্য
দক্ষিণ ভারতের অন্য রাজ্য কেরালার স্থানীয় নির্বাচনেও কংগ্রেস বিপুল জয় পেয়েছে, এবং এবার তেলেঙ্গানায় তাদের সাফল্য দলটিকে উৎফুল্ল করেছে। তামিলনাড়ু ও পদুচেরি বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই জয় শতাব্দী প্রাচীন দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন নিয়ে জোট শরিক ডিএমকের সঙ্গে কংগ্রেসের মতানৈক্য চলছে, এবং কংগ্রেস সরকারে অংশীদার হতে আগ্রহী হলেও ডিএমকে তাতে রাজি নয়। তামিলনাড়ু, পদুচেরি, পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা ও আসামের বিধানসভা নির্বাচন এই বছরের এপ্রিল-মে মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন মোড় আনতে পারে।
