ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ৮ জুন, ডিএমকে ও আপের অনুপস্থিতি
ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ৮ জুন, ডিএমকে-আপ নেই

বিজেপি ও তার শরিকদের মোকাবিলার কৌশল নির্ধারণে আগামী ৮ জুন দিল্লিতে বৈঠকে বসছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। এই বৈঠকে ১৪ থেকে ১৫টি দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। তবে শুরু থেকেই কিছুটা অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে ডিএমকে ও আম আদমি পার্টির (আপ) অনুপস্থিতির কারণে। জোটের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও এই দুই দলের কেউই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

মমতার উপস্থিতি ও তৃণমূলের অবস্থান

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি আসবেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে দলের সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত থাকবেন। বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর এটি হবে তাঁদের প্রথম রাজ্যের বাইরে পদক্ষেপ। ভোট বিপর্যয়ের পর মমতা বলেছিলেন, তিনি এখন মুক্ত বিহঙ্গ এবং তাঁর প্রথম কাজ হবে ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করা।

কংগ্রেসের উদ্যোগ ও কৌশল

ইন্ডিয়া জোটের এই সম্মেলনের প্রধান উদ্যোক্তা কংগ্রেস। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে আসামে টানা দ্বিতীয়বার ভরাডুবি হলেও কেরলে তারা সরকার গঠন করেছে। তামিলনাড়ুতেও জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছে কংগ্রেস। ৫৯ বছর পর দক্ষিণের এই রাজ্যে ক্ষমতার অংশীদার হয়েছে দলটি। তবে এই সিদ্ধান্ত তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র ডিএমকের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে। তবুও কংগ্রেস চায়, দেরি না করে বিজেপির কার্যকর মোকাবিলায় ইন্ডিয়া জোটকে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখতে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কংগ্রেস সূত্রের মতে, সম্মেলনে আগামী দিনের বিরোধী রাজনীতির সম্মিলিত কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি করা হবে, যাতে সর্বভারতীয় স্তরে জোট হিসেবে ‘ইন্ডিয়া’ সক্রিয় হয়ে ওঠে। কংগ্রেসের পক্ষে উপস্থিত থাকবেন সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, কে সি বেণুগোপালসহ অন্যান্য নেতারা। এ ছাড়া সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব ও রামগোপাল যাদব, আরজেডির তেজস্বী যাদব, ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে, এনসিপির শারদ পাওয়ার ও সুপ্রিয়া সুলে, ন্যাশনাল কংগ্রেসের ওমর আবদুল্লাহ উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত হয়েছে।

বাম ও অন্যান্য দলের অংশগ্রহণ

বাম দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কেরলের আইইউএমএলের নেতারাও বৈঠকে থাকবেন। কংগ্রেস তামিলনাড়ুর শাসক দল টিভিকেকে ইন্ডিয়া জোটে অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। সম্মেলনে দলটির কোনো নেতাকে হাজির করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি বিজেডি, বিআরএস ও ওয়াইএসআর কংগ্রেসকেও জোটে টানার চেষ্টা করা হচ্ছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে ইতিমধ্যে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে।

জোটের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ

কংগ্রেস উদ্যোগী হলেও জোটের মধ্যে কাঁটা হয়ে খচখচ করছে তাদের সঙ্গে ডিএমকে ও আপের সম্পর্ক। ডিএমকের সঙ্গ ত্যাগ করে টিভিকের হাত ধরায় তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস ও ডিএমকের মুখ দেখাদেখি বন্ধ। অন্যদিকে পাঞ্জাবে কংগ্রেস চায় আপকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করতে; ওই রাজ্যে আগামী বছর ভোট। সম্প্রতি পৌরনিগম, পৌরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে আপ প্রথম হয়েছে, কংগ্রেস দ্বিতীয় এবং বিজেপি চতুর্থ। মমতার মতো কেউ কেউ চান, বিজেপিকে রুখতে কংগ্রেসের সঙ্গে ওই দুই দলের কোনো রকম সমঝোতা হোক।

তবে পশ্চিমবঙ্গে মমতা দিন দিন কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। বিধায়কদের ওপর তাঁর দখল ক্রমেই শিথিল হচ্ছে। এই অবস্থায় মঙ্গলবার থেকে তিনি নতুন করে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যদিও তাতে কতটা সফল হবেন তা বলা কঠিন। ইতিমধ্যে তিনি দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করেছেন এবং সেই দুই বিধায়ককে সামনে রেখে বিজেপি চায় তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন ধরাতে। তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিধানসভার স্পিকার এখনো বিরোধী দলের নেতার মর্যাদা দেননি। বিজেপি চেষ্টা করছে তৃণমূলে ভাঙন ধরাতে, যাতে সেই দলের নেতাকে বিরোধী নেতার স্বীকৃতি দেওয়া যায়। তাই এই আবহে ইন্ডিয়া জোটের দিকে মমতা কতটা নজর দিতে পারবেন, তা বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।