ভারতের কেরলম রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ৬১ বছর বয়সী ভি ডি সতীশন। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে কংগ্রেস সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন কেরলমের দায়িত্বপ্রাপ্ত এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক দীপা দাশমুন্সী। এর মধ্য দিয়ে ১০ দিন ধরে চলা উত্তেজনার অবসান হলো।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট
কেরলমের শাসক বামফ্রন্ট জোট এলডিএফকে হারিয়ে জয়ী হয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট। ১৪০ সদস্যের বিধানসভায় ইউডিএফ জোট এবার ১০২টি আসন জিতেছে। তবে ৪ মে নির্বাচনী ফল ঘোষিত হলেও কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা ঠিক করতে পারেনি। ৭ মে কংগ্রেসের নবনির্বাচিত বিধায়কেরা পরিষদীয় দলের নেতা ঠিক করার ভার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। দফায় দফায় বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার সকালে অবশেষে সতীশনকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।
দাবিদারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা
মুখ্যমন্ত্রিত্বের জোরালো দাবিদার ছিলেন তিনজন। দলের সাবেক সভাপতি রমেশ চেন্নিথালা (৬৯), বিদায়ী বিধানসভার বিরোধী নেতা ভি ডি সতীশন (৬১) এবং এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল (৬৩)। বেণুগোপাল লোকসভার সদস্য এবং বিধানসভার নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হননি। রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বেণুগোপালকে মুখ্যমন্ত্রী করা হলে তাঁকে লোকসভার সদস্যপদ ছেড়ে কোনো এক বিধানসভা কেন্দ্র থেকে উপনির্বাচনে জয়ী হতে হতো। কংগ্রেস নেতৃত্ব নানা কারণে সেই ঝুঁকি নিতে চায়নি। তাছাড়া বেণুগোপালকে মুখ্যমন্ত্রী করা হলে এআইসিসিতে তাঁর জায়গায় কাকে আনা হবে, সেই সিদ্ধান্তও নিতে হতো।
সতীশনের যোগ্যতা
সতীশন ২০০১ সাল থেকে টানা জিতে আসছেন, যা তাঁর ষষ্ঠ জয়। গত পাঁচ বছর বিধানসভায় দক্ষতার সঙ্গে তিনি বিরোধী নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারের ভোটে বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে প্রচারের প্রধান অভিমুখও ছিলেন তিনি। সবচেয়ে বড় কথা, ইউডিএফের বড় শরিক দল ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের (আইইউএমএল) সমর্থনও ছিল তাঁর প্রতি। তিন দাবিদারের মধ্যে মুসলমান সমাজ সতীশনকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চেয়েছে। এমনকি ওয়েনাড লোকসভা কেন্দ্রে, যেখান থেকে জিতে প্রথমে রাহুল ও পরে প্রিয়াঙ্কা লোকসভার সদস্য হয়েছেন, সেখানে সতীশনের সমর্থনে পোস্টার পড়েছে। কোনো কোনো পোস্টারে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সতীশনকে মুখ্যমন্ত্রী করা না হলে ওয়েনাডও অচিরেই আমেথি হয়ে যাবে।
শরিকদের দাবি ও কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত
আইইউএমএল এবার ২২টি আসন জিতেছে। তাদের দাবি ও ইচ্ছাকে আমল দেওয়া ছাড়া কংগ্রেস শীর্ষ নেতাদের অন্য উপায় ছিল না। তাই কংগ্রেসের জেতা ৬৩ বিধায়কের বেশির ভাগের সমর্থন বেণুগোপালের দিকে থাকলেও বৃহস্পতিবার সকালের বৈঠকে খাড়গে ও রাহুল বেছে নেন সতীশনকেই। এতে এক প্রথারও বিচ্যুতি ঘটল। অতীতে নির্বাচিত বিধায়কদের অভিমতকেই শীর্ষ নেতৃত্ব গুরুত্ব দিতেন। এই প্রথম শরিকদের দাবিকে আমল দিতে বাধ্য হলো কংগ্রেস হাই কমান্ড।
পরবর্তী পদক্ষেপ
সতীশনের নাম ঘোষণার আগে বৃহস্পতিবার সকালে রাহুল কথা বলেন রমেশ চেন্নিথালা ও বেণুগোপালের সঙ্গে। রমেশ চেন্নিথালাকে বিধানসভার স্পিকার করা যায় কি না, সেই ভাবনা দলে রয়েছে। সতীশনের নাম ঘোষণার পর বেণুগোপাল বলেন, তিনি খুশি। শীর্ষ নেতৃত্ব সব দিক বিবেচনা করে ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। সতীশনের নেতৃত্বে ইউডিএফ সরকার জনতার ইচ্ছা ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করবে। সতীশন কবে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন, তা জানানো হয়নি। ২৩ মের মধ্যে কেরলমের নতুন সরকার গঠন করতে হবে।



