গাজীপুরে পাঁচ হত্যাকাণ্ড: পদ্মা সেতু থেকে লাফ দেওয়া ব্যক্তি নিয়ে তদন্ত
গাজীপুরে পাঁচ হত্যা: পদ্মা সেতু থেকে লাফ দেওয়া ব্যক্তি নিয়ে তদন্ত

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এবার নতুন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে পদ্মা সেতু থেকে ‘লাফ দেওয়া’ ব্যক্তিকে ঘিরে তদন্ত চলছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের বক্তব্য

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফউদ্দীন এসব তথ্য জানান। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনার পরপরই তিনটি টিম মাঠে নামে। একটি টিম চলে যায় গোপালগঞ্জে, সেখানে তার এলাকা। আরেকটি টিম চলে যায় বেনাপোল; যেন ফোরকান বর্ডার ক্রস করতে না পারে। এরই মধ্যে তার পাসপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো ব্লক করা হয়। আমাদের ধারণা ছিল সে বেনাপোল দিয়ে সে বাইরে চলে যেতে পারে।’

মোবাইল উদ্ধারের তথ্য

ফোরকানের মোবাইল উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফউদ্দীন বলেন, আমরা তার মোবাইল উদ্ধারের চেষ্টা করি। মোবাইলটি আমরা মেহেরপুর থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। সেখানে একজন বাসের হেলপারের কাছ থেকে মোবাইলটি উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সে জানায়, সে মোবাইলটি পদ্মা সেতু থেকে পেয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে (পদ্মা সেতু) আমাদের একটি টিম গিয়ে সিসিটিভি ফুটে চেক করেছে। সেখানে দেখা গেছে- একটি প্রাইভেট কার থেকে নেমে একটি ব্যক্তি সেখানে (পদ্মাসেতুর ওপরে) মোবাইলটি রেখেছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পদ্মা সেতু থেকে লাফ দেওয়া ব্যক্তি

পদ্মা সেতু থেকে একব্যক্তি লাফ দেওয়ার তথ্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আমরা সেই প্রাইভেটকারটিকে শনাক্ত করেছি। ভিডিও ফুটেজে চেক করে দেখতে পেয়েছি, সে (মোবাইল রাখা ব্যক্তিটি) পদ্মা সেতু থেকে নিচে লাফ দিয়েছে। আমরা ফোরকানের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য বাদীকে ভিডিওটি দেখায়; বাদী বলেছেন ‘মনে হচ্ছে ফোরকান’। গোপালগঞ্জে ও তার আশপাশে দেখিয়েছি- তারা বলেছে ‘মনে হচ্ছে ফোরকান’। আমাদের কাছে আপডেট এই পর্যন্ত আছে। পদ্মা সেতু থেকে এক ব্যক্তি লাফ দিয়েছে সেটা সত্য। তবে এই ব্যক্তিই যে ফোরকান সেটা আমরা নিশ্চিত নয়।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৯ মে ভোরে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা (পূর্ব পাড়া) গ্রামের তার ভাড়া বাসা থেকে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্ত্রী নিহত শারমিনের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শারমিনের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো ছিল না ফোরকানের। ইতোপূর্বে পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন।