কালিয়াকৈরে জলাবদ্ধতা: অবহেলা ও পরিকল্পনাহীনতার ফল
কালিয়াকৈরে জলাবদ্ধতা: অবহেলা ও পরিকল্পনাহীনতা

মাত্র তিন ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার অন্তত ছয়টি এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে এবং প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। সোমবার ভোররাতের সেই বৃষ্টির পর বুধবার সকালেও যখন ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কোমরপানিতে তলিয়ে থাকে, এটি তখন আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ থাকে না। এখানে অবহেলা, অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনাহীনতা স্পষ্ট।

স্থানীয়দের দুর্ভোগ

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, কালিয়াকৈরের হরিণহাটি, হাবিবপুর, বিশ্বাসপাড়া, রূপনগরসহ বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষকে আসবাব খুইয়ে যেভাবে কোমরপানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে কিংবা আঞ্চলিক সড়কে আশ্রয় নিতে হচ্ছে, তা একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভার বাসিন্দাদের জন্য চরম দুর্ভাগ্যজনক।

জলাবদ্ধতার মূল কারণ

স্থানীয় ভুক্তভোগী মানুষের অভিযোগ থেকে স্পষ্ট যে এই আকস্মিক ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার মূল কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পানিনিষ্কাশনের প্রাকৃতিক খাল ও জলাধার দখল এবং অত্যন্ত দুর্বল ও অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। কালিয়াকৈর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে হাজার হাজার তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক বসবাস করেন, যাঁদের এই নোংরা পানি মাড়িয়েই কারখানায় যেতে হচ্ছে। এর ওপর ডাইং কারখানার দূষিত কেমিক্যালযুক্ত পানি ও আবর্জনা আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আনসার ভিডিপি একাডেমির ভূমিকা

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, স্থানীয় লোকজনের দাবি অনুযায়ী, আনসার ভিডিপি একাডেমির কিছু স্থাপনা নির্মাণের ফলে মহাসড়কের নিচের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যেকোনো বড় রাষ্ট্রীয় বা বেসরকারি অবকাঠামো নির্মাণের সময় আশপাশের পানিনিষ্কাশনব্যবস্থা সচল রাখার যে মৌলিক নিয়ম রয়েছে, তা এখানে মানা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তোলা জরুরি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পৌরসভার স্বীকারোক্তি ও প্রশ্ন

পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্বীকার করেছেন যে পৌরসভার খালগুলো পানি ধারণক্ষমতার বাইরে চলে গেছে এবং অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে পানি নামতে সময় লাগছে। তিনি ড্রেন পরিষ্কার এবং ভরাট হয়ে যাওয়া খাল খননের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে প্রশ্ন হলো, বর্ষা মৌসুম আসার আগেই কেন এই নিয়মিত তদারকি ও খাল খননের কাজগুলো সম্পন্ন করা হলো না?

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন

কালিয়াকৈরের এ পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে জোড়াতালির ড্রেন পরিষ্কারের সাময়িক উদ্যোগ দিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অবিলম্বে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। যেখানে প্রথম কাজ হতে হবে পৌরসভার ভেতরের বেদখল হওয়া সব প্রাকৃতিক খাল ও জলাশয় চিহ্নিত করে তা উদ্ধার ও গভীর করে খনন করা। দ্বিতীয়ত, মহাসড়ক ও শিল্পাঞ্চলের পানিপ্রবাহের বাধাগুলো অপসারণ করতে হবে এবং প্রয়োজনে আনসার একাডেমির মতো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পানিনিষ্কাশনের নতুন কালভার্ট বা পথ তৈরি করতে হবে।