ভেনেজুয়েলায় গত ২৪ জুনের জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১,১৭১ বার আফটারশক বা অনুকম্পন অনুভূত হয়েছে। এসব কম্পন উদ্ধারকারীদের কাজকে বারবার বাধাগ্রস্ত করছে এবং দুর্গত এলাকায় আতঙ্ক বাড়িয়ে তুলেছে।
ভূমিকম্পের বিবরণ ও হতাহতের সংখ্যা
দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২৪ জুন মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে এখন পর্যন্ত ৪,১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৬,৭৪০ জনেরও বেশি মানুষ। হাজার হাজার মানুষ এখনও বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন।
ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম
রদ্রিগেজ জানান, এ পর্যন্ত ৮৬,৭৯৪টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ধসে পড়া ভবন থেকে ৬,৪৬২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ৮৫৬টি ভবন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১৯০টি পুরোপুরি ধসে পড়েছে। ত্রাণ তৎপরতার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, দুর্গত এলাকায় ৯,৭৬৬ মেট্রিক টন খাদ্য এবং ১ কোটি ৩৯ লাখ লিটারের বেশি পানি বিতরণ করা হয়েছে। চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন ২৯,৯৬৬ জন আহত ও অসুস্থ মানুষ। বাস্তুচ্যুতদের জন্য ৮৯টি সাময়িক আশ্রয় শিবির তৈরি করা হয়েছে।
নিয়োজিত কর্মী ও চলমান চ্যালেঞ্জ
উদ্ধার ও ত্রাণ কাজে বর্তমানে ৩০,০৭৬ জন সরকারি কর্মী, ২৯,৮৪৩ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং ৩,৪৫৪ জন আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিলে বড় আকারে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আফটারশকের কারণে পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। প্রতিবার কম্পন অনুভূত হলে উদ্ধারকাজ বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হচ্ছে কর্মীদের। এই চলমান অনুকম্পনগুলো পুরো দুর্যোগ এলাকায় নতুন করে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি



