কক্সবাজারে বন্যায় দুই শিশুর মৃত্যু, আটকা ৩ লাখের বেশি মানুষ
কক্সবাজারে বন্যায় দুই শিশুর মৃত্যু, আটকা ৩ লাখের বেশি

কক্সবাজার জেলায় টানা পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় অন্তত দুই শিশু ডুবে মারা গেছে। চকরিয়া, সদ্য গঠিত মতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলায় তিন লাখের বেশি মানুষ আটকা পড়েছে। শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

শিশুদের মর্মান্তিক মৃত্যু

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা গ্রামে সুলতান আহমেদের দুই বছরের ছেলে মোহাম্মদ ওয়াকিম বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায়। এর আগে দিনে মতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকায় আরিফুল ইসলামের তিন বছরের ছেলে পুষ্প স্রোতে ভেসে যায় এবং মারা যায়।

উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম

চকরিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মতামুহুরী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত শাহিন দেলোয়ার জানান, নিহত শিশুদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রতিনিধিদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে। উপকূলীয় ইউনিয়নে স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হয়েছে পানি নিষ্কাশনের জন্য।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মাতামুহুরী ও সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চকরিয়ার বারইতলী, বোমুবিলছড়ি, কাকারা, লক্ষ্যারচর, চিরিঙ্গা ও হারবাং ইউনিয়ন প্লাবিত। মতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা, ধেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএম চর ও সাহারবিল ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত।

পেকুয়া উপজেলায় উজানটিয়া, মগনামা, বারবাকিয়া, মেহেরনামা ও পৌর এলাকার কিছু অংশে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়ে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।

নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম জানান, বাঁকখালী নদীর পানি ৫.৮৮ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ৬.৫৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান জানান, জেলার ৬৪৮টি সাইক্লোন ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও জরুরি প্রতিক্রিয়া সমন্বয় করা হচ্ছে। নাগরিকদের জরুরি প্রয়োজনে কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগের অনুরোধ জানান তিনি।

প্রচুর বৃষ্টিপাত

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, গত পাঁচ দিনে জেলায় প্রায় ৭০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে।