সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ফ্রান্স দারুণ ছন্দময় ফুটবলে এবার অ্যাটলাস লায়ন–খ্যাত মরক্কোকে বিদায় করে দিয়েছে। ২-০ গোলে জিতে তারা সবার আগে উঠেছে চলতি আসরের সেমিফাইনালে। যেখানে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলে একটি করে গোল করেছেন। আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির সমান ৮টি গোল করলেও, অ্যাসিস্টে এগিয়ে থাকায় গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে গেলেন এমবাপ্পে।
ম্যাচের উল্লেখযোগ্য রেকর্ড
গত ৬০ বছরে বিশ্বকাপের এক ম্যাচে গোল করা, অ্যাসিস্ট করা এবং পেনাল্টি মিস করার ঘটনা ঘটেছে মাত্র চারবার। এর মধ্যে শেষ তিন দিনের মধ্যেই ঘটেছে দুটি, মিশরের বিপক্ষে লিওনেল মেসি এবং মরক্কোর বিপক্ষে কিলিয়ান এমবাপ্পে।
প্রথমার্ধে পেনাল্টি পেয়েছিল ফ্রান্স। স্পটকিকে নেওয়া এমবাপ্পের দুর্বল শটটি ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো। ১৯৬৬ সালের পর (টাইব্রেকারসহ) বিশ্বকাপে যৌথভাবে সর্বোচ্চ চারটি পেনাল্টি সেভের কীর্তিও এখন তার।
এমবাপ্পের অনন্য কীর্তি
বিশ্বকাপে এটি তৃতীয়বারের মতো একই ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট করলেন এমবাপ্পে। গত ৬০ বছরে তার চেয়ে বেশি (৫ বার) এমন কীর্তি আছে শুধু মেসির।
টানা তৃতীয় বিশ্বকাপের (২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) সেমিফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। ইতিহাসে জার্মানি (২০০২-২০১৪ পর্যন্ত টানা চারবার এবং ১৯৮২-১৯৯০ পর্যন্ত টানা তিনবার) ও ব্রাজিলের (১৯৯৪-২০০২ পর্যন্ত টানা তিনবার) পর তৃতীয় দল হিসেবে এই কীর্তি গড়ল তারা।
এটি ফ্রান্সের অষ্টম বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল, যা ব্রাজিলের সমান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তাদের ওপরে রয়েছে শুধু জার্মানি (১২)।
দেম্বেলে ও অন্যান্য পরিসংখ্যান
উসমান দেম্বেলে বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের পঞ্চম গোল করলেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পাঁচটিই এসেছে ২০২৬ বিশ্বকাপে। ২০১৮ ও ২০২২ আসরে তিনি কোনো গোল করতে পারেননি।
আর্জেন্টাইন রেফারিদের পরিচালনায় বিশ্বকাপে নিজেদের ষষ্ঠ ম্যাচ জিতেছে ফ্রান্স। ইতিহাসে কোনো দেশের জন্য এটাই সর্বোচ্চ।
এই বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা এখন ৮। অ্যাসিস্টে এগিয়ে থাকায় (এমবাপ্পে ৩, মেসি ১) তিনি আবারও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসিকে ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠে গেছেন।
বিশ্বকাপে এমবাপ্পে এখন পর্যন্ত ৮টি ম্যাচের জয়সূচক গোল করেছেন, যা ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ।
সতীর্থ জুটির রেকর্ড
এমবাপ্পের ৮ গোল এবং দেম্বেলের ৫ গোল – একই বিশ্বকাপে পাঁচ বা তার বেশি গোল করা সতীর্থ জুটির মধ্যে এটি ২০০২ সালের পর এটাই প্রথম ঘটনা। ওই আসরে ব্রাজিলের রোনালদো (৮) ও রিভালদো (৫) একই কীর্তি গড়েছিলেন।
এবারের বিশ্বকাপে এমবাপ্পে, দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসে মিলে এখন পর্যন্ত ২৩টি গোলে অবদান রেখেছেন। যা ২০০২ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী ত্রয়ী রোনালদো, রিভালদো ও রোনালদিনহোর (২০) চেয়ে তিনটি বেশি।
এমবাপ্পের ব্যক্তিগত মাইলফলক
১৯৬৬ সালের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ১০ বা তার বেশি গোলে অবদান রাখলেন এমবাপ্পে। ২০২২ সালে ছিল ১০টি, আর ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১১টি।
২০২৬ বিশ্বকাপে এমবাপ্পের ১১টি গোলে অবদান (গোল+অ্যাসিস্ট) রয়েছে, যা ১৯৭০ সালে গার্ড মুলারের ১৩টির পর এক আসরে সর্বোচ্চ।
গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমবাপ্পের মোট গোলে অবদান এখন ১৪টি। গত ৬০ বছরে যা মেসির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।
ফ্রান্সের হয়ে টানা ১৫টি পেনাল্টি সফলভাবে রূপান্তর করার পর এবার প্রথমবার ব্যর্থ হলেন এমবাপ্পে। এর আগে সর্বশেষ ফ্রান্সের জার্সিতে তার পেনাল্টি মিস ছিল ইউরো ২০২০-এ সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে।
অন্যান্য পরিসংখ্যান
১৮ বছর ২৮০ দিন বয়সে মরক্কোর আইয়ুব বুয়াদ্দি বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা ইতিহাসের দ্বিতীয় কনিষ্ঠ ফুটবলার। এখনও সর্বকনিষ্ঠ ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলে, যিনি ১৯৫৮ সালে ওয়েলসের বিপক্ষে খেলেছিলেন ১৭ বছর ২৩৯ দিন বয়সে।
বিশ্বকাপে এমবাপ্পের ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা এখন ২০, যা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তার ওপরে আছেন শুধু লিওনেল মেসি (২১)।
দিদিয়ের দেশমের অধীনে এটি এমবাপ্পের ২০তম বিশ্বকাপ ম্যাচ, একই কোচের অধীনে কোনো খেলোয়াড়ের জন্য যা সর্বোচ্চ।
বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জয়ের সংখ্যা এখন ৪৫, যা ইতালির সমান যৌথভাবে চতুর্থ সর্বোচ্চ। তাদের ওপরে রয়েছে ব্রাজিল (৭৯), জার্মানি (৭০) ও আর্জেন্টিনা (৫২)।
ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে ১০০ বা তার বেশি গোলে অবদান রাখা প্রথম ফুটবলার হলেন এমবাপ্পে। এখন পর্যন্ত তার অবদান ১০১টি, এর মধ্যে ৬৪ গোল ও ৩৭ অ্যাসিস্ট।



