বাঁশখালীতে বন্যায় মাটির ঘর ধস, নিঃস্ব হয়ে পড়েছে ১৫ জনের পরিবার
বাঁশখালীতে বন্যায় মাটির ঘর ধস, নিঃস্ব ১৫ জন

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল ইউনিয়নের বোচারপাড়া এলাকায় আজ শনিবার দুপুরে দেখা গেছে ভয়াবহ ধ্বংসের চিত্র। মাটির ঘরের ভাঙা দেয়াল কোদাল দিয়ে সরাচ্ছেন আবদুল কাদের। পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর স্ত্রী রীনা আক্তার, যিনি কথা বলতে বলতে বারবার চোখ মুছছিলেন।

পাঁচ কক্ষের ঘর ছিল ১৫ জনের ঠিকানা

আবদুল কাদের জানান, পাঁচ কক্ষের ওই মাটির ঘরেই দুই ভাইয়ের পরিবার থাকত। তাঁর পরিবারে সদস্য সাতজন, বড় ভাই নুর কাদেরের পরিবারে আটজন—মোট ১৫ জন মানুষ একসঙ্গে ওই বাড়িতে বসবাস করতেন। বুধবার রাতে হঠাৎ বন্যার ঢল এলে মুহূর্তেই ঘর তলিয়ে যায়। মাটির দেয়াল ধসে পড়তে শুরু করে। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে বের হয়ে আসেন তাঁরা।

রীনা আক্তার বলেন, ‘মাটির ঘরটাই ছিল আমাদের সম্বল। বুধবার রাতে হঠাৎ বন্যার ঢল এল। মুহূর্তেই ঘর তলিয়ে গেল। মাটির দেয়াল ভেঙে পড়তে শুরু করল। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে বের হয়ে আসি। এখন কোথায় থাকব, কী খাব—কিছুই জানি না।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দিনমজুর পরিবারের নতুন করে ঘর তোলার সামর্থ্য নেই

আবদুল কাদের ও নুর কাদের দুই ভাই-ই দিনমজুর। প্রতিদিন কাজ করলে চুলা জ্বলে, না করলে চলে না সংসার। নতুন করে ঘর তোলার সামর্থ্য তাঁদের নেই। ভাঙা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আবদুল কাদের বলেন, ‘এত বড় দুর্যোগ জীবনে দেখিনি। এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেল।’

বাঁশখালীতে বন্যা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি

কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার মধ্যে রয়েছে বাঁশখালী। বৃষ্টি কিছুটা কমলেও অনেক এলাকায় এখনো পানি পুরোপুরি নামেনি। কোথাও কেবল কাদা আর ধ্বংসস্তূপ রয়েছে গেছে। অনেক নলকূপ এখনো পানির নিচে, ফলে নিরাপদ খাওয়ার পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, বাঁশখালীর কিছু ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলের পানি কমেছে, তবে উপকূলের কাছে থাকা ইউনিয়নগুলোয় বন্যার পানি নামছে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্ভোগ

দক্ষিণ শেখেরখীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন আমানউল্লাহ। তাঁর বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে, পুকুরের মাছ চলে গেছে, বন্যার পানিতে মারা গেছে দুটি ছাগল। বেঁচে থাকা ১০টি গরু নিয়ে কোনোমতে ওই আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছেন তিনি। এই কৃষক স্থানীয় ভাষায় বলেন, ‘ঘরত এহনো পানি। চুলা ন জ্বলের। ক্যানে দিন হাডাইয়ুম ন জানি। পথত বই গেলামগই।’