চট্টগ্রামে বৃষ্টি কমলেও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি নেই, পানিবন্দী লাখো মানুষ
চট্টগ্রামে বৃষ্টি কমলেও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি নেই

প্রায় এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের অনেক এলাকা এখন পানিবন্দী। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সাতকানিয়া উপজেলার হাসান বলীপাড়া গ্রাম এলাকায় এ চিত্র দেখা যায়। টানা এক সপ্তাহের অতি ভারী বর্ষণের পর চট্টগ্রামে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি আগের কয়েক দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়েছে। তবে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় এখনো মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এদিকে বৃষ্টির তীব্রতা কমলেও বন্যা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি।

বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও পূর্বাভাস

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ২১ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। এর আগে কয়েক দিন ধরেই ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দৈনিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের আকাশ অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। অধিকাংশ জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বৃষ্টির ধারা ও বন্যা পরিস্থিতি

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ সুমন সাহা প্রথম আলোকে বলেন, মৌসুমি বায়ু এখনো সক্রিয় রয়েছে। এ কারণে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

চট্টগ্রামে ৪ জুলাই থেকে টানা ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সাত দিনে মোট ১ হাজার ১৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সে তুলনায় সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টি অনেক কম।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বৃষ্টি কমলেও বন্যা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। কোথাও কোথাও পানি কমতে শুরু করলেও অনেক এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে। আবার কিছু এলাকায় নতুন করে পানি বেড়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলায় কয়েক লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগকবলিত এলাকায় ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রয়েছে। এসব কেন্দ্রে ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।