টানা পাঁচ দিনের ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও সমুদ্রের জোয়ারের কারণে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যার পানি বাড়ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক মাটির তৈরি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জরুরি সতর্কবার্তা ও উদ্ধার অভিযান
বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে উপজেলা প্রশাসন জরুরি জনসচেতনতামূলক বার্তা দিয়ে নিম্নাঞ্চল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মসজিদের মাইক ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পানিবন্দি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মানবেতর জীবনযাপন
ছনুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সাইফি আনোয়ার আজিম জানান, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের ফলে ছনুয়া ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ মাটির ঘরও ভেঙে পড়েছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লেয়াকত আলী জানান, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বাঁশখালীর মানুষের অবস্থা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত
বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, বাঁশখালীর বন্যা পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল ইতোমধ্যে বৈলছড়ি এলাকা থেকে একটি পরিবারের সাত সদস্যকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ত্রাণ বিতরণের প্রতিশ্রুতি
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন জানান, সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী পাওয়া মাত্রই দ্রুত দুর্গত এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ ও বন্যাকবলিত এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।



