চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ভারি বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসে এক নারী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলা সদর ইছাখালী গুচ্ছগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর নাম রেনু আক্তার (৫৫)। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন, তবে তাদের তাৎক্ষণিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টির মধ্যে ঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়লে রেনু আক্তার চাপা পড়ে মারা যান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পাহাড় ধস এবং দুর্যোগের বিষয়ে ব্যাপক মাইকিং করে সতর্ক করার পরও এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক।’
দুর্যোগের ব্যাপক প্রভাব
টানা বৃষ্টিতে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা, জলাবদ্ধতা, পাহাড় ধস, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি এবং তীরভাঙনের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড় কাটা, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ এবং নালা-নর্দমার অপর্যাপ্ত সংস্কারের কারণে অনেক এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে, ফলে দুর্যোগের মাত্রা বেড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা
সরেজমিনে দেখা গেছে, সরফভাটা ইউনিয়নে ভারী বৃষ্টির পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক সড়ক ও বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের বনগ্রাম সড়ক কোমরসমান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ভবানি এলাকায় পাহাড় ধসে তিনটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে কয়েকটি পরিবার এখনও পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বসবাস করছে। পারুয়া ইউনিয়নের জঙ্গল এলাকায়ও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। বেতাগী ইউনিয়নের ডেমিরছড়া গুচ্ছগ্রামের কাছে দুটি বসতঘরের ওপর পাহাড় ধসে পড়েছে। এছাড়া পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ইছামতি নদীর বিভিন্ন স্থানে তীরভাঙন দেখা দিয়েছে।



