চুয়াডাঙ্গায় বিরামহীন বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে এবং কিছু এলাকায় সড়ক ভেঙে পড়েছে, যার ফলে মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টা ৪০ মিনিট থেকে বৃষ্টি শুরু হয়ে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রায় ৫ ঘণ্টায় ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি চুয়াডাঙ্গায় এ মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
জলাবদ্ধতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম ব্যাঘাত
জেলার চারটি উপজেলা শহর ও পৌরসভা জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। বৃষ্টির পানি নোংরা ড্রেনের সঙ্গে মিশে রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করায় রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। তবে বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি কাজে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। সড়কগুলোরও একই হাল—সড়কের দুই পাশে বৃষ্টির পানি জমে যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে।
স্থানীয়রা জানান, মাঠঘাট বৃষ্টির পানিতে ডুবে টইটম্বুর হয়ে গেছে। কর্মজীবী মানুষ বৃষ্টির কারণে বাড়ি থেকে বের হতে পারেনি, ফলে রাস্তাগুলো জনমানবশূন্য দেখা গেছে। শহরে রিকশা, ইজিবাইক ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল কম লক্ষ্য করা গেছে।
সড়ক ভাঙন ও ফসলের ক্ষতি
চুয়াডাঙ্গার নিচু এলাকায় পানি তলিয়ে যাওয়ায় বসতবাড়ি ও ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে, বিপাকে পড়েছে মানুষ। দামুড়হুদার জয়রামপুরে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় দুর্গ্রামের মধ্যে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে চলাচলে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। দর্শনায়ও বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। গুলশানপাড়ার বাসিন্দা আসমত আলী বলেন, 'আমার এলাকা থেকে দক্ষিণ হাসপাতাল পাড়া পর্যন্ত রাস্তাটি অনেকটাই নিচু। এসব এলাকায় পানি জমে গেছে। আশেপাশের পাড়া-মহল্লার রাস্তাগুলোও ডুবে আছে পানির নিচে।'
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, এই বৃষ্টির কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বসতবাড়ি ও ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বৃষ্টিপাতের কারণে গ্রীষ্মকালীন সবজি ও আমন বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই বৃষ্টি পাট ও ফল গাছের উপকার বয়ে আনবে।



