ভারী বর্ষণে কক্সবাজার-চট্টগ্রামে প্লাবন, পাহাড়ধসে ১০ জনের মৃত্যু
ভারী বর্ষণে কক্সবাজার-চট্টগ্রামে প্লাবন, পাহাড়ধসে নিহত ১০

টানা দুই দিনের অতি ভারী বর্ষণে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ধস ও দেয়ালধসে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১৯৮৩ সালের পর ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

কক্সবাজারে পাহাড়ধস ও প্লাবন

কক্সবাজার জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ১৯৩টি ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। জেলা সদর, টেকনাফ, রামু, মহেশখালী, চকরিয়া ও পেকুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শতাধিক গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে।

মঙ্গলবার বিকাল তিনটার দিকে উখিয়ায় দেয়াল চাপা পড়ে মো. মানিক (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। এর আগে সকালে মহেশখালীতে জমে থাকা পানিতে পড়ে ২১ মাস বয়সী রুমাইসা খানমের মৃত্যু হয়। বেলা দুইটার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর সৈকতের বিপরীতে বড়ছড়া পাহাড়ের হাজিঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে গৃহবধূ লিমা আক্তার নিহত হন। তার স্বামী জসিম উদ্দিন আহত হয়েছেন বলে জানান কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রোহিঙ্গা শিবিরে ঝুঁকি ও উদ্ধার

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, আশ্রয়শিবিরের পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থাকা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, উখিয়ার ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর ক্যাম্প ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্তত ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ৪৮৯ পরিবারকে সরানো হয়েছে।

চট্টগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টি ও প্রাণহানি

চট্টগ্রাম নগরের রহমাননগর এলাকায় দেয়ালধসে সফিকুল ইসলাম (৩২) নিহত হন। আহত হয়েছেন তার দেড় বছর বয়সী মেয়ে সাইফা ও শাশুড়ি মর্জিনা বেগম। রাঙ্গুনিয়ায় মাটির ঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি ও গাছ চাপা পড়ে রেনু আক্তার (৫৬) নিহত হন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভারী বৃষ্টির কারণে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি। রেললাইনে পানি জমে থাকায় কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে ষোলোশহরে আটকে পড়ে।

প্লাবিত এলাকা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার অন্তত ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। চকরিয়ার বরইতলী, হারবাং, কৈয়ারবিল, খুটাখালী, সুরাজপুর-মানিকপুর, ফাঁসিয়াখালী, কাকারা ও লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম তলিয়ে গেছে। পেকুয়ার টৈটং, শিলখালী, সদর ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম প্লাবিত।

খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের একাধিক স্থানে পানি উঠে যাওয়ায় সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ১০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতেও পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

নদীর পানি বৃদ্ধি ও বন্যার আশঙ্কা

পাহাড়ি ঢলে বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বাড়ায় রামু ও চকরিয়ার ১৪টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। কক্সবাজার পৌরসভা, টেকনাফ, উখিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, ঈদগাঁও ও কুতুবদিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। টেকনাফের হ্নীলা, হোয়াইক্যং, সদর, সাবরাং ও বাহারছড়া ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, আগামী কয়েক দিন আরও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। পাহাড়ধসে প্রাণহানি রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।