দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা, সিলেটে ইতোমধ্যে অস্থায়ী বন্যা
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা, সিলেটে অস্থায়ী বন্যা

সারা দেশে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ইতোমধ্যে অস্থায়ী বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় বেশ কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে।

ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস

বৈশ্বিক আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চলমান ভারী বৃষ্টিপাত ১৪ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে নতুন একটি মৌসুমি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আরও বেশি জলীয়বাষ্প প্রবেশ করতে পারে এবং ১৩ জুলাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগ, সিলেট বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতির সম্ভাব্য উন্নতি

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ধীরগতিতে উন্নতি হতে পারে। তবে ফেনী ও খাগড়াছড়ি জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উত্তর-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের ঝুঁকি

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হতে পারে। তবে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সতর্কতা ও পরামর্শ

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষকে পরিস্থিতির দিকে নিবিড় নজর রাখতে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বলেন, ‘বৃষ্টি কমার সঙ্গে সঙ্গে সাঙ্গু, মাতামুহুরি, খোয়াই এবং কুশিয়ারার পানি কমতে শুরু করেছে। এতে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার শঙ্কা দেখছে না বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র এবং রবিবার থেকে বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।’

নদীর পানির অবস্থা

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের তিস্তা, কুশিয়ারা, সুরমা, সোমেশ্বরী ও ছোট ফেনীসহ পাঁচটি নদীর নয়টি স্টেশনে পানি সতর্কসীমায় রয়েছে। এছাড়া নয়টি পয়েন্টে নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল সাঙ্গু নদীর বান্দরবান ও দোহাজারী পয়েন্টে পানি যথাক্রমে ৯৫ ও ২৩ সেন্টিমিটার, মাতামুহুরী নদীর লামা ও চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৪৭ ও ৩২ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১৮ ও ১০ সেন্টিমিটার, মনু নদীর মনু রেলওয়ে ব্রিজ ও মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৩৫ ও ৮০ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদীর বল্লা পয়েন্টে ৬০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার উপরে রয়েছে।

বৃষ্টিপাতের রেকর্ড

গত ২৪ ঘণ্টায় উজানে ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে সর্বোচ্চ ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে দেশে সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে। পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি নদীর পানি পরিমাপক স্টেশনের মধ্যে ৭৯টিতে পানি বেড়েছে, ৪৩টিতে কমেছে এবং পাঁচটিতে অপরিবর্তিত রয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং আগামীকাল রবিবার পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও এরপর ধীরে ধীরে কমতে পারে। আবহাওয়া গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানিয়েছেন, আজ শনিবার সকাল ৮টার মধ্যে চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।