বাঁশখালীতে বন্যায় ২ লাখ মানুষ পানিবন্দি, তীব্র পানি ও খাদ্যসংকট
বাঁশখালীতে বন্যায় ২ লাখ পানিবন্দি, পানি-খাদ্যসংকট

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় দুই লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সমুদ্রের জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, ফলে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

পানিবন্দি অবস্থা ও ক্ষয়ক্ষতি

উপজেলা প্রশাসনের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাঁশখালীর ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ২ লাখের বেশি মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্য মতে, উপজেলার পুইছড়ি, ছনুয়া, শেখারখীল, চাম্বল, গন্ডামারা, শীলকুপ, পৌরসভা, বৈলছড়ি, কালীপুর, সাধনপুর, খানখানাবাদ, বাহারছাড়া ও পুকুরিয়া এলাকায় ৮০ শতাংশ বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া পাঁচ শতাধিক কাঁচামাটির তৈরি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

ত্রাণ বিতরণ ও সংকট

ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে খাওয়ার স্যালাইন এবং বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন বলেন, “বাঁশখালী উপজেলার অধিকাংশ এলাকার ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে আছে। বিশুদ্ধ পানি এবং খাবার উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন এনজিও বিতরণ করলেও এগুলো পর্যাপ্ত নয়। আরও অনেক বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের প্রয়োজন আছে।” তিনি সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও বক্তব্য

অতি ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে পুঁইছড়ি, শেখেরখীল, চাম্বল, বৈলছড়ি, পৌরসভা, কালিপুর, সাধনপুর, গন্ডামারা, বাহারছাড়া ও খানখানাবাদ। সমাজকর্মী কলিম উল্লাহ মিসবাহ বলেন, “টানা বৃষ্টির পানি, অরক্ষিত বেড়িবাঁধ দিয়ে বঙ্গোপসাগরের পানি প্রবেশ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে বাঁশখালীর ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। বেশিরভাগ মাটির ঘর ভেঙে পড়েছে। তীব্র খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।” এনজিও কর্মী কল্যাণ বড়ুয়া জানান, বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের পর্যাপ্ত সংকট রয়েছে।

কৃষি ক্ষতি ও আহ্বান

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা জানান, কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বাঁশখালীবাসীর অবস্থা ভয়াবহ। বসতবাড়ির পাশাপাশি পানির নিচে তলিয়ে গেছে কৃষকদের শাকসবজি ও বীজতলা। তিনি দেশের বিত্তশালী ও ব্যবসায়ীদের যে যার মতো সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।