ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে কামালগঞ্জের ২৫ গ্রাম প্লাবিত, ১০ হাজার মানুষ আটকা
ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে কামালগঞ্জের ২৫ গ্রাম প্লাবিত

মৌলভীবাজারের কামালগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীর একটি প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বাঁধটি ভেঙে যায়, ফলে প্রায় ১০ হাজার মানুষ আটকা পড়েছেন।

বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা

বৃহস্পতিবার এলাকা পরিদর্শনে দেখা যায়, ইস্লামপুর, আদমপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বুধবার রাতে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মোকাবিল ও গঙ্গানগর এলাকায়, যেখানে বাঁধের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে পানি গ্রামে প্রবেশ করে।

নদীটি বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, ফলে কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে আরও নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও ফসলের ক্ষতি

বন্যার কারণে ইস্লামপুর-আদমপুর প্রধান সড়ক ডুবে গেছে, যার ফলে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোকাবিল, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরিগাঁও ও শ্রীপুরসহ অন্তত ২৫টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।

কৃষকরা ব্যাপক ফসলের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। আউশ ধানের জমি তিন থেকে চার ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া ভান্ডারিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়সহ অন্তত আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে, যার ফলে ক্লাস ও চলমান পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

বাঁধ মেরামত নিয়ে অভিযোগ

স্থানীয় বাসিন্দারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিরুদ্ধে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সময়মতো মেরামত না করার অভিযোগ করেছেন। তারা বলছেন, মোকাবিল এলাকার বাঁধটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, কিন্তু সময়মতো মেরামত না করায় এই বিপর্যয় ঘটেছে।

অভিযোগের জবাবে মৌলভীবাজার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, তারা মোকাবিল এলাকায় বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) আপত্তির কারণে কাজ শেষ করা যায়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

“আমরা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে মেরামতের কাজ শুরু করেছিলাম, কিন্তু বিএসএফের বাধার কারণে তা সম্পন্ন করা যায়নি। যে কাজ করা হয়েছিল, তা স্রোতের তোড়ে ভেসে গেছে,” তিনি বলেন।

ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম

কামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান জানান, তিনি বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং পানিবন্দি মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে শুকনো খাবার ও জরুরি ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে।

ধলাই নদী এখনও বিপদসীমার অনেক উপরে প্রবাহিত হওয়ায় তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাউবো সতর্ক করেছে, উজান থেকে পানি আসা অব্যাহত থাকলে মনু ও কুশিয়ারা নদী অববাহিকায় বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়বে।