বজ্রপাতে গাছকাটা শ্রমিকের মৃত্যু: চিতলমারীর মর্মান্তিক ঘটনা
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় বজ্রপাতে এক গাছকাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরেক শ্রমিক আহত হয়েছেন, যা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিবরণ
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দুপুর আড়াইটার দিকে চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের সিকদারপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শান্ত শেখ নামে ২০ বছর বয়সী এক যুবক একটি শিরিষ গাছ কাটার সময় আকস্মিক বৃষ্টি ও বজ্রপাতে আঘাতপ্রাপ্ত হন।
গাছের মালিক হাবিল মীর জানান, "বৃষ্টি শুরু হওয়ার পরও তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ করেই একটি ভয়াবহ বজ্রপাত শান্ত শেখকে আঘাত করে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।"
উদ্ধার ও চিকিৎসা
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা শান্ত শেখকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী টুঙ্গিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই সময়ে আহত হন ২৫ বছর বয়সী এছিন মীর, যিনি হাবিল মীরের ছেলে।
মৃত শান্ত শেখ বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের গাংপাড় গ্রামের দবির শেখের ছেলে ছিলেন। আহত এছিন মীর একই ইউনিয়নের মৃত্তিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
এ ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায় শোকাহত। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে কাজ করা শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্কতা সত্ত্বেও এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা যাচ্ছে।
বজ্রপাতের সময় নিরাপত্তা বিধি:
- খোলা মাঠে কাজ বন্ধ রাখা
- উঁচু গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে না দাঁড়ানো
- ধাতব সরঞ্জাম থেকে দূরে থাকা
- নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া
পরিসংখ্যান ও প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে প্রতি বছর বজ্রপাতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে কৃষি ও নির্মাণ শ্রমিকরা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বজ্রপাতের ঘটনা বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
চিতলমারী উপজেলা প্রশাসন এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং মৃতের পরিবার ও আহত ব্যক্তির দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলেছে। স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছে, বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে আরও বেশি সংখ্যক বজ্র নিরোধক স্থাপন করা হোক।



