যশোরে কালবৈশাখি ঝড়ে এক কৃষকের মৃত্যু, ২০ জন আহত ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
যশোরে কালবৈশাখি ঝড়ে মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি

যশোরে কালবৈশাখি ঝড়ে এক কৃষকের মৃত্যু, ২০ জন আহত ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

টানা দাবদাহে পুড়তে থাকা যশোর জেলায় হঠাৎ নেমে আসে প্রচণ্ড কালবৈশাখি ঝড়। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরের পর আকস্মিকভাবে শুরু হওয়া এই ঝড়ে বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা ঝড় ও বজ্রপাতে আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন, পাশাপাশি নিহত হয়েছেন এক কৃষক।

ঝড়ের তীব্রতা ও প্রাথমিক ঘটনা

গত কয়েকদিন ধরে যশোরের তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল, তবে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর আকাশ কালোমেঘে গুমোট আকার ধারণ করে। কিছু সময়ের মধ্যেই শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড় ও বজ্রপাত, যা এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। হাসপাতাল, পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনিরামপুর উপজেলার শাহাপুর গ্রামে বাড়ি থেকে মাঠে যাওয়ার সময় বজ্রপাতে লুৎফর রহমান সরদারের মৃত্যু হয়।

মনিরামপুর ও কেশবপুরে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

মনিরামপুর উপজেলার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা এলাকায় কালবৈশাখি ঝড় তীব্র আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। গাছ ভেঙে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপর পড়ায় ঝাঁপা, হরিহরনগর, রাজগঞ্জ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যদিকে, কেশবপুরে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, এবং অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে বিদ্যুতের খুঁটির উপর পড়েছে। ঝড়ে আহত হয়ে ৯ জন কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে ২ জনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃষি ও বিদ্যুৎ খাতের অবস্থা

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, ঝড়ে প্রায় ১৫০ বিঘা জমির ধান হেলে পড়েছে এবং আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার মূলগ্রাম দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন জানান, মাদ্রাসার ছাদের উপর গাছ পড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে, এবং এলাকার কৃষকদের ধান, আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ জেনারেল ম্যানেজার হাদিউজ্জামান বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে মনিরামপুর ও কেশবপুরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে গেছে এবং অসংখ্য জায়গায় তারের উপর গাছ পড়ে আছে। কর্মীরা রাতেও কাজ করছে, তবে সব জায়গায় বিদ্যুৎ লাইন সচল করা সম্ভব হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও ত্রাণ কার্যক্রম

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে। বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ায় কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯ জন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং তারা শঙ্কামুক্ত।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, ঝড়বৃষ্টিতে যশোরে তেমন ক্ষতি হয়নি, কিছু কিছু জায়গায় বোরো ধান হেলে পড়েছে কিন্তু সেগুলোতে তেমন ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তিনি বলেন, যশোরে ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে যা ধানের জন্য আশীর্বাদ, তবে কোথাও ক্ষয়ক্ষতি হলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে এবং বজ্রপাতে মনিরামপুরে একজন মারা যাওয়ার খবর আছে। কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।