রাঙামাটিতে নৌকাডুবি: অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ ১১ জন উদ্ধার
রাঙামাটি জেলার সদর উপজেলার কাপ্তাই হ্রদে একটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার রাত পৌনে আটটার দিকে বালুখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কিল্লা পাহাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ মোট ১১ জন যাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
সদর উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে ১১ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁরা ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব বৈসুক অনুষ্ঠান শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। যাত্রীরা সবাই নৌকার একপাশে অবস্থান নেওয়ায় হঠাৎ হেলে বিপরীত দিক থেকে পানি উঠতে শুরু করে। এরপর নৌকাটি ডুবে যায়।
দুর্ঘটনাস্থলটি জুরাছড়ি জোনের রাজমণিপাড়া সেনা ক্যাম্প থেকে মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ মিটার দূরে অবস্থিত। ক্যাম্পে কর্তব্যরত একজন সদস্য বিষয়টি লক্ষ্য করে দ্রুত ক্যাম্প কমান্ডারকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নৌকা নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সবাইকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধার ও চিকিৎসা
নৌকায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ১১ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও ছিলেন। উদ্ধারের পর তাঁকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকি যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে নিরাপদে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রাঙামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, "উৎসব থেকে বাড়ি যাওয়া পথে একটি ট্রলার ডুবেছে। পরে তাঁদের সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে।"
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
বালুখালী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বিপ্লব ত্রিপুরা জানান, নৌকাডুবির এ ঘটনায় আহত একজনকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নৌকার যাত্রীরা সবাই ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের এবং উপজেলার কিল্লাপাড়ার বাসিন্দা।
এ ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত সাড়া দেওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।



