দুর্যোগ পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি বিশ্লেষণে পাইলট প্রকল্প: সাতক্ষীরা, ভোলা ও বরগুনায় ডাটাবেজ নির্মাণ
দুর্যোগ পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও পরিকল্পনা শক্তিশালী করতে সাতক্ষীরা, ভোলা ও বরগুনায় পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) একটি সমন্বিত ডাটাবেজ ও ভূ-স্থানিক তথ্যভিত্তিক ঝুঁকি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে, যা লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।
কর্মশালায় তথ্য প্রকাশ
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এলজিইডি সদর দফতরের সেমিনার কক্ষে ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ মূল্যায়ন’ শীর্ষক ইনসেপশন কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়। কর্মশালার আয়োজন করে ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং প্রজেক্টের (ক্রিম্প) আওতাধীন ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট লোকাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেন্টার (ক্রিলিক)। একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কর্মশালার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্য
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন বলেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্যোগ পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে ঝুঁকি নিরূপণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এই প্রকল্পটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় স্থানীয় পর্যায়ে অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়ক হবে।
কর্মশালার সভাপতি ও উপস্থাপনা
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও ক্রিলিকের পরিচালক মো. আজহারুল ইসলাম। এতে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ন্যাকম-ও-ক্রিডস জেভির টিম লিডার প্রফেসর ড. হাসান মাহমুদ ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তার উপস্থাপনায় দুর্যোগ পরবর্তী তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের প্রযুক্তিগত দিকগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়।
বিভিন্ন সংস্থার অংশগ্রহণ
এই কর্মশালায় পরিবেশ অধিদফতর, আবহাওয়া অধিদফতর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর, গণপূর্ত অধিদফতর (পিডব্লিউডি) এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে তাদের মতামত দেন। তাদের অংশগ্রহণ এই প্রকল্পের বহুমাত্রিক দিকগুলোকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যান্য উপস্থিতি
কর্মশালায় এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে তা দেশের অন্যান্য দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলেও প্রসারিত হতে পারে, যা জাতীয় পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কৌশলকে আরও কার্যকর করে তুলবে।



