ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট: বৃষ্টি ও সড়কের বেহাল অবস্থায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ
টানা বৃষ্টি ও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই যানজট বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্টরা জানান, মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত সকাল থেকে থেমে থেমে গাড়ি চলতে দেখা গেছে। বিকেল ৪টার দিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কাঁচপুর থেকে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত দীর্ঘ এ যানজটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঢাকামুখী যাত্রীরা।
যানজটের কারণ ও বিস্তার
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ধীরগতির যান চলাচল দেখা যায়, যা দুপুরের দিকে আরও খারাপ আকার ধারণ করে। বিশেষ করে কাঁচপুর সেতু এলাকার নিচ দিয়ে ইউটার্ন ব্যবহার করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রবেশ করতে না পারায় যানবাহনের চাপ গিয়ে পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। এতে কাঁচপুর, শিমরাইল, মদনপুর ও ভূলতা সংযোগ এলাকা পেরিয়ে যানজট বিস্তৃত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃষ্টির পানি জমে সড়কের অনেক জায়গা ছোট পুকুরের মতো হয়ে গেছে। কোথাও কার্পেটিং উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত। ফলে একসঙ্গে একাধিক যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ভারী যানবাহন ও বাস ধীরগতিতে চলাচল করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
যাত্রীদের ভোগান্তি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
যানজটে আটকে পড়া যাত্রীরা জানান, কয়েক কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কেউ অফিসে, কেউ জরুরি কাজে সময়মতো পৌঁছাতে পারছেন না। নারী, শিশু ও অসুস্থ যাত্রীরা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে।
শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ট্রাফিক ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন বলেন, "বৃষ্টির কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বড় অংশ কাদা ও পানিতে ডুবে গেছে। এতে একবারে একটি করে গাড়ি চলাচল করছে। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।" তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে একাধিক টিম কাজ করছে।
এই যানজটের ফলে যাত্রীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অনেক যাত্রী তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছেন, যা অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা।



