কেরানীগঞ্জের কারখানায় আগুন: ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি গঠন
ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকায় একটি গ্যাসলাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শনিবার রাত ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল ইসলামের পাঠানো এক খুদে বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
তদন্ত কমিটির গঠন ও দায়িত্ব
ফায়ার সার্ভিসের অপারেশনস ও মেইনটেন্যান্স বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন:
- ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক ছালেহ উদ্দিন
- সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান
- পরিদর্শক হাসানুল আলম
- কেরানীগঞ্জ ফায়ারস্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন
কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদনে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধের উপায় সম্পর্কে সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময়রেখা ও উদ্ধারকাজ
বেলা একটার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের কদমতলী ডিপজল গলি সড়ক এলাকার আল বারাকা হাসপাতালের পাশে অবস্থিত গ্যাসলাইটার কারখানাটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের দমকলকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে নিরলসভাবে চেষ্টা চালানোর পর বেলা আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
এরপরও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রাখা হয় এবং বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে কারখানার আগুন সম্পূর্ণরূপে নিভিয়ে ফেলা হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর কারখানার ভিতর থেকে পাঁচজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মরদেহগুলোর মধ্যে তিনজন নারী এবং দুজন পুরুষ ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব
এই অগ্নিকাণ্ড শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। কারখানার প্রধান ফটক তালাবদ্ধ থাকার অভিযোগ রয়েছে, যা উদ্ধারকাজে বাধার সৃষ্টি করেছিল। ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি এই বিষয়সহ অন্যান্য নিরাপত্তা লঙ্ঘনের দিকগুলো খতিয়ে দেখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কেরানীগঞ্জের মতো শিল্পঘন এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা শুধু জীবনহানিই নয়, অর্থনৈতিক ক্ষতিরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা ও শিল্প মালিকদের মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।



