কেরানীগঞ্জে গ্যাসলাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পাঁচ শ্রমিক নিহত, অনেকে নিখোঁজ
ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলী ডিপজল গলি সড়ক এলাকায় একটি গ্যাসলাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার বেলা একটার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের এই কারখানায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় বেলা আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর কারখানার ভেতর থেকে পাঁচ শ্রমিকের পোড়া লাশ উদ্ধার করা হয়। একাধিক শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিখোঁজ শ্রমিকদের জন্য হাহাকার
অগ্নিকাণ্ডের পর কারখানার সামনে সন্তানদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন অভিভাবকরা। কুলসুম বেগম নামের এক নারী বলেন, 'আমরা গোলামবাজার এলাকায় থাকি। তিন মাস আগে ছেলে এ কারখানায় কাজে ঢোকে। আজ সকাল আটটার দিকে কাজের উদ্দেশ্যে ছেলে বের হয়। আগুন লাগার পর থেকে তার খোঁজ নেই। আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই।' তাঁর ছেলে নাঈমের বয়স মাত্র ১৭ বছর।
অন্য একজন অভিভাবক কাওসার সরদার বলেন, 'প্রায় এক বছর ধরে আমার মেয়ে কারখানাটিতে কাজ করছিল। প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও সে কাজে যায়। পরে লোকমুখে জানতে পারি এখানে আগুন লেগেছে। তৎক্ষণাৎ এখানে এসে মেয়ের খোঁজ করছি। কিন্তু মেয়ের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না।' তাঁর মেয়ে মনিরার বয়স ১২ বছর।
মৃতদেহ উদ্ধার ও হাসপাতালে স্থানান্তর
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কারখানার ভেতর থেকে একে একে পাঁচটি মৃতদেহ উদ্ধার করেন। মৃতদেহগুলো পুলিশের পিকআপভ্যানে রাখার পর ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সযোগে পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। আগুনে পুড়ে যাওয়ায় মৃত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় বা লিঙ্গ নিশ্চিত করা যায়নি।
ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'এ পর্যন্ত কারখানার ভেতর থেকে পাঁচজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ শ্রমিকদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।'
কারখানার ইতিহাস ও স্থানীয়দের বক্তব্য
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই কারখানাটি প্রায় দুই বছর আগেও একবার অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়েছিল। তখন প্রশাসন কারখানা বন্ধ করে দিলেও মাসখানেক পর ফের কার্যক্রম শুরু হয়। কারখানায় ৩৫ থেকে ৪০ জন শ্রমিক কাজ করতেন বলে স্থানীয়রা জানান।
ডিপজল গলি এলাকার বাসিন্দা রমিজ মিয়া বলেন, 'ওপরে টিনশেড আর চারপাশে দেয়াল দিয়ে কারখানাটি তৈরি করা হয়েছে। এর ভেতরেই আটটি গুদাম ছিল। যেখানে গ্যাসলাইটারের কাঁচামাল রাখা হতো।'
আরেক বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, 'গ্যাসলাইটার কারখানাটি সম্পূর্ণ অবৈধ। আগুন লাগার পর প্রথমে আমরা নেভানোর চেষ্টা করি। পরবর্তী সময়ে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।'
ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্য
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম (দোলন) বলেন, 'অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আমাদের সাতটি ইউনিট দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় বেলা আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে কারখানা থেকে পাঁচটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।' কারখানার মালিক আকরাম মিয়া অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায় ও কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলমান রয়েছে। নিখোঁজ শ্রমিকদের খোঁজে অভিযান অব্যাহত আছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।



