দৌলতদিয়া বাস দুর্ঘটনায় বিআরটিএর কঠোর পদক্ষেপ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে যাওয়া সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটির রেজিস্ট্রেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। একইসঙ্গে বাসটির মালিককে তলব করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিআরটিএর চিঠিতে বিস্তারিত নির্দেশনা
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিআরটিএ রাজবাড়ী সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) মুহাম্মদ অহিদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এবং বিধিমালা ২০২২ অনুযায়ী দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির রেজিস্ট্রেশন তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।
এছাড়া, কেন বাসটির রেজিস্ট্রেশন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে বিআরটিএ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে মালিককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাসের রেজিস্ট্রেশন সনদ, ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস সনদ, রুট পারমিট এবং চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ মূল নথিপত্র তলব করা হয়েছে।
ব্যর্থ হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা
চিঠিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে বাসটির রেজিস্ট্রেশন স্থায়ীভাবে বাতিলসহ মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই পদক্ষেপটি দুর্ঘটনার তদন্ত ও দায়িত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দুর্ঘটনার প্রাথমিক প্রতিবেদন
এদিকে, বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। সেই প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২৫ মার্চ বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে যায়।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জন যাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং পাঁচ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণে বিআরটিএর তদন্ত চলমান রয়েছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।



