দৌলতদিয়া ঘাটে বাসডুবি: উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত, নিখোঁজ নেই
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় আর কোনও নিখোঁজের দাবি না থাকায় উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে পন্টুনটি সরিয়ে তল্লাশি চালানো হয়, কিন্তু কোনও নতুন সন্ধান মেলেনি। একই সময়ে দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে প্রশাসনের গঠিত দুটি তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে, যা ঘটনার গভীরতা অনুসন্ধানে সহায়তা করছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
গত বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত মোট ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়, যা ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে। আজ উদ্ধার অভিযান শেষ করা হয়েছে, কারণ নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান পাওয়া গেছে বা তাদের সম্পর্কে তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য ও তদন্ত প্রক্রিয়া
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানিয়েছেন, ‘সবশেষ নিখোঁজ দাবি করা ইটভাটা শ্রমিক রিপনের সন্ধান মিলেছে ঢাকায়। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন। ফলে বর্তমানে আর কোনও নিখোঁজ ব্যক্তি নেই। এজন্য উদ্ধার অভিযান শেষ করা হয়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, সকাল ১০টার দিকে ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনটি সরিয়ে উদ্ধারকারীরা পুনরায় তল্লাশি চালান, কিন্তু কোনও নতুন সূত্র পাওয়া যায়নি। দুপুর ১২টার দিকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন, যা তদন্তের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তদন্ত কমিটির অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে বলেন, ‘দুর্ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্তের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’ এই প্রতিবেদন দুর্ঘটনার মূল কারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে সুপারিশমালা অন্তর্ভুক্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ঘটনা পদ্মা নদীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে, বিশেষ করে ফেরিঘাট ও পন্টুন পরিচালনায়। স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবা প্রদানকারীদের দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রশংসিত হলেও, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য আরও কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের দাবি উঠছে।



