টাঙ্গাইলে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ গার্মেন্টস কর্মীর শেষকৃত্য সম্পন্ন
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে নিহত মা ও ছেলেসহ পাঁচ গার্মেন্টস কর্মীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে তাদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পৃথকভাবে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
পৃথক জানাজা ও দাফনের বর্ণনা
দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ধাপেরহাট ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের বাড়ি চত্বরে সুলতান মাহমুদের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার চাচাতো বোন রিফা খাতুনের জানাজা নামাজ বাড়ির উঠানে সম্পন্ন করা হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের লাশ দাফন করা হয়।
একই দিন দুপুর দেড়টার দিকে অপর নিহত দোলা বেগমের গ্রামের বাড়ি বোয়ালিদহ গ্রামে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তার লাশও পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
অন্যদিকে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিজপাড়া গ্রামের ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন স্থানে নার্গিস বেগম ও তার ১২ বছর বয়সী ছেলে নিরবের যৌথ জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি তাদের দাফন করা হয়।
জানাজায় অংশগ্রহণ ও শোকের পরিবেশ
পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত এসব জানাজা নামাজে ইমামতি করেন স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম। এতে নিহতদের স্বজন, প্রতিবেশী, স্থানীয় এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিহতদের লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে ধাপেরহাট ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। লাশ পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের করুণ আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয়জনদের শেষবারের মতো দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ ভিড় করেন।
নিহতদের পরিচয় ও দুর্ঘটনার পটভূমি
নিহতরা হলেন— নিজপাড়া (আমবাগান) গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে সুলতান মাহমুদ (২৮), তার চাচাতো বোন রিফা খাতুন (২৪), আব্দুর রশিদের মেয়ে; অপররা হলেন নার্গিস আক্তার (৪২), তার শিশু ছেলে নিরব (১২) এবং বোয়ালিদহ গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী দোলা বেগম (৪৫)। নার্গিস আক্তার একই গ্রামের হামিদুজ্জামান (হাম্বু)-এর স্ত্রী।
তারা সবাই দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। স্থানীয়রা জানান, ঈদের ছুটি শেষে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় ফেরার পথে তারা এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার শিকার হন। একই পরিবারের একাধিক সদস্যসহ পাঁচ জনের মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক।
জানা গেছে, নিহতরা সবাই দরিদ্র পরিবারের গার্মেন্টস শ্রমিক ছিলেন। ঈদের ছুটি শেষে ধাপেরহাট বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তারা। পথিমধ্যে বহনকারী বাসটির তেল শেষ হয়ে গেলে সন্ধ্যার দিকে তারা সড়কের পাশে নেমে পড়েন। পরে অসতর্কভাবে রেললাইনের ওপর বসে কথা বলার সময় হঠাৎ দ্রুতগামী ট্রেন এসে পড়লে সরে যাওয়ার আগেই ঘটে যায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা।
এই ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা এখন চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছেন। এলাকাবাসীরা দুর্ঘটনায় নিহতদের জন্য দোয়া ও মাগফিরাত কামনা করছেন।



