রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমা পদ্মার বাসডুবিতে নিহত
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মধ্য আটরাই গ্রামের বাসিন্দা নাসিমা বেগম, যিনি ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন, তিনি এখন দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবিতে নিহত হয়েছেন। ঈদের ছুটি শেষে ঢাকা ফেরার পথে তার মৃত্যু ঘটে, যা পার্বতীপুরে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
জানা গেছে, নাসিমা বেগম জীবিকার সন্ধানে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভারে তার ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে গিয়েছিলেন। এক মাস চেষ্টার পরও কোনো চাকরি না পেয়ে, তিনি ঈদ উপলক্ষে আজমিরার শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে যান। বুধবার, ২৫ মার্চ বিকালে, নাসিমা তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ এবং চার বছরের শিশু আব্দুর রহমানের সাথে বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বাসটি হঠাৎ পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় তারা সবাই ডুবে যান। ডুবে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আব্দুল আজিজকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও, প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমা সহ বাকি তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নাসিমার জীবন ও ট্র্যাজেডির ইতিহাস
নাসিমা বেগম ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন। ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে তিনদিন আটকে থাকার পর তাকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। তার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী জানান, এরপর থেকে নাসিমা গ্রামের বাড়িতে ছিলেন, কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে আবারও ঢাকা ফেরেন। সেই ফেরাতেই তার মৃত্যু ঘটে।
পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন বলেন, নাসিমার পরিবারকে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এই ঘটনা পার্বতীপুরে শোকের ছায়া ফেলেছে, যেখানে নাসিমা একটি পরিচিত নাম হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
উল্লেখ্য, নাসিমা বেগমের মৃত্যু দুটি বড় ট্র্যাজেডির মধ্যে একটি করুণ সংযোগ তৈরি করেছে, যা নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধের গুরুত্বকে আরও জোরালো করে তুলেছে।



