টাঙ্গাইলে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত পাঁচজনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর, ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে
টাঙ্গাইলে ট্রেনে নিহত পাঁচজনের লাশ হস্তান্তর, ক্ষতিপূরণ দেওয়া

টাঙ্গাইলে ট্রেনের ধাক্কায় মা-ছেলেসহ পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় মা-ছেলেসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে ধলাটেঙ্গর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের লাশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ক্ষতিপূরণ ও লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শুক্রবার দিনগত রাত ৪টার দিকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এ সময় প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২৫ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়। নিহত রিফা আক্তারের বড় ভাই আব্দুল মোমিন বলেন, ‘রাত ৪টার দিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা দিয়েছে। লাশ নিয়ে বাড়িতে পৌঁছেছি এবং বাদ জোহর দাফন করা হবে।’

নিহতদের পরিচয় ও দুর্ঘটনার কারণ

নিহতরা হলেন:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার পূরাব নিজপাগা গ্রামের নার্গিস (৩৫)
  • নার্গিসের ছেলে নিরব (১২)
  • নার্গিসের বড় ছেলের শাশুড়ি দোলা (৩৫)
  • একই এলাকার সুলতান (৩৩)
  • আব্দুর রশিদের মেয়ে রিফা আক্তার (২৩)

তারা ঈদের ছুটি শেষে গাইবান্ধা থেকে ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন। বাসের যাত্রী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা থেকে ছেড়ে আসা বাসটির হঠাৎ তেল শেষ হয়ে যায়। চালক ও হেলপার তেল আনতে গেলে বাসটি রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বাসটি সেখানে অবস্থান করার সময় কয়েকজন যাত্রী রেললাইনে বসে ছিলেন। এ সময় সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন এসে তাদের ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশ ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

ঘারিন্দা রেলস্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মিজানুর রহমান বলেন, ‘বাসের তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা রেললাইনে বসেছিলেন। টাঙ্গাইল থেকে ছেড়ে আসা ট্রেন চলে এলে দুর্ঘটনা ঘটে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে এবং প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।’

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহাদত হোসেন জানান, স্বজনরা রাতেই টাঙ্গাইলে ছুটে যান এবং সকালে লাশ নিয়ে বাড়িতে ফেরেন। দুপুরের মধ্যেই জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে। এ ঘটনায় স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে এবং পুরো গ্রাম শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট

বাসের যাত্রীরা বেশির ভাগই পোশাক কারখানার কর্মী ছিলেন। তারা ঢাকায় কাজে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনার শিকার হন। রেললাইনের পাশে বাস দাঁড়িয়ে থাকার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবই এ ট্রাজেডির মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয়রা নিরাপত্তা সচেতনতা ও যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন।