টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে এক পরিবারের পাঁচজন নিহত
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ধলাটেংগর এলাকায় এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় এক পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে, যেখানে স্বজনদের করুণ আহাজারি দেখা গেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়া রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা নিহতদের শনাক্ত করেছেন এবং তদন্ত শুরু করেছে।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে কালিহাতী উপজেলার ধলাটেংগর এলাকায় একটি বাসের তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা রেললাইনে নেমে আসেন। এই সময় সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন এসে পড়ে এবং ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরের নার্গিস (৩৫) ও তার ছেলে নিরব (১২) সহ একই পরিবারের মোট পাঁচজন নিহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের অন্ধকারে যাত্রীরা রেললাইনের উপর দিয়ে হাঁটছিলেন, যা নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করে।
রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
রেল মহাপরিচালক আফজাল হোসেন এই ঘটনায় মন্তব্য করেছেন যে, রেললাইনে অবস্থান নিষিদ্ধ এবং অসতর্কতার কারণেই এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, রেলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার তদন্ত চলছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
ঈদের ছুটিতে দুর্ঘটনার প্রবণতা
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুসারে, ঈদের ছুটিতে সড়ক ও রেলপথে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ১৭ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে মোট ২৭৪ জন নিহত হয়েছেন, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যানবাহনের ভিড়, অসতর্কতা এবং নিরাপত্তা বিধি না মানাই এই দুর্ঘটনাগুলোর মূল কারণ। এই পরিস্থিতিতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নিরাপত্তা সচেতনতা কর্মসূচি জোরদার করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
দুর্ঘটনাস্থলে স্বজনদের মর্মন্তুদ আহাজারি এবং স্থানীয়দের শোক প্রকাশ দেখা গেছে। টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদান এবং ঘটনার তদন্তে মনোনিবেশ করেছে। এছাড়া, রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ক্যাম্প স্থাপন এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই দুর্ঘটনা দেশব্যাপী সড়ক ও রেল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে।



