টাঙ্গাইলে ট্রেন দুর্ঘটনায় গাইবান্ধার পাঁচ গার্মেন্টস কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ধলা ট্যাংগর এলাকায় এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় শিশুসহ পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের সবার বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামে। ঈদের ছুটি শেষে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় ফেরার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। একসঙ্গে পাঁচ জনের মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় চলছে শোকের মাতম, যেন পুরো গ্রামটি স্তব্ধ হয়ে গেছে।
নিহতদের পরিচয় ও পেশা
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সুলতান মাহমুদ (২৮), যিনি নিজপাড়া (আমবাগান) গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে এবং ধাপেরহাট ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তার চাচাতো বোন রিফা রেসা (২৪), আব্দুর রশিদের মেয়ে, তিনিও একজন গার্মেন্টস কর্মী ছিলেন।
অপর নিহতরা হলেন নার্গিস আক্তার (৪২), তার শিশু ছেলে নিরব (১২) এবং নিরবের বড় ভাইয়ের শাশুড়ি, প্রতিবেশী দোলা বেগম (৪৫)। নার্গিস আক্তার ওই গ্রামের হামিদুজ্জামান ওরফে হাম্বুর স্ত্রী। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য এবং পেশায় গার্মেন্টস শ্রমিক ছিলেন।
গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিজপাড়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। এক পরিবারের একাধিক সদস্যসহ একই গ্রামের পাঁচ জনের মৃত্যুতে গ্রামবাসী যেন স্তব্ধ হয়ে গেছেন। নিহতদের অধিকাংশই রাজধানীর বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। ঈদের ছুটি শেষে বাড়ি থেকে ঢাকায় ফেরার পথে এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা। পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যদের হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা।
দুর্ঘটনার পটভূমি ও বিবরণ
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুলতান মাহমুদ ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। তার পরিবারে স্ত্রী ও দেড় বছরের একটি সন্তান রয়েছে। তিনি চাচাতো বোন রিফা রেসাসহ ধাপেরহাট থেকে বাসে করে ঢাকায় ফিরছিলেন। নিহত নার্গিস আক্তার, তার ছেলে নিরব এবং দোলা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে আবার ঢাকায় ফিরছিলেন তারা।
নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) ও নিজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শাহাদত হোসেন। তিনি জানান, সবাই দরিদ্র পরিবারের গার্মেন্টস শ্রমিক ছিলেন। ঈদের ছুটি শেষে দুপুরের পর ধাপেরহাট বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তারা। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্বজনরা ইতিমধ্যে টাঙ্গাইলে ছুটে গেছেন। লাশ কখন এবং কীভাবে গ্রামে আনা হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
দুর্ঘটনার বর্ণনা
দুর্ঘটনার বর্ণনায় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যাত্রাপথে তাদের বহনকারী বাসের তেল শেষ হয়ে গেলে সন্ধ্যার পর তারা সড়কের পাশে নেমে পড়েন। পরে অসতর্কভাবে রেললাইনের ওপর বসে গল্প করছিলেন। এ সময় হঠাৎ দ্রুতগামী ট্রেন চলে এলে সরে যাওয়ার আগেই ঘটে যায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা। এই দুর্ঘটনা শুধু পাঁচটি প্রাণ কেড়ে নেয়নি, বরং একটি সম্পূর্ণ গ্রামকে শোকের অতলে ডুবিয়ে দিয়েছে।



