কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষ: নিহতদের পরিবার পাবে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ করেছে। রোববার (২২ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ক্ষতিপূরণ ও সহায়তার বিস্তারিত
হাবিবুর রশিদ বলেন, যারা নিহত হয়েছেন, তাদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে রেল থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া কুমিল্লা জেলা প্রশাসন থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহত ব্যক্তিদের ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার খরচ সরকার বহন করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন জানিয়ে রেল প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে যাদের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন, তাদের যেন সহায়তা করা হয়।
দুর্ঘটনার কারণ ও ব্যবস্থা
যাদের গাফিলতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে উল্লেখ করে হাবিবুর রশিদ বলেন, যে রেলগেটগুলো অরক্ষিত আছে, সরকার সেই গেটগুলোকে ওভারপাস অথবা আন্ডারপাস করে দেওয়ার কথা ভাবছে। রেল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে দুজনের গাফিলতি পেয়ে তাদের বরখাস্ত করেছে।
এর আগে, বেলা ১১টার দিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‘সম্ভবত গেটটা খোলা ছিল, যার কারণে ওই ড্রাইভার ট্রেনলাইনে উঠে গেছে। পরে এই দুর্ঘটনাটা হইছে।’
এই দুর্ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে কৃষি মন্ত্রী জানান, নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ২৫ হাজার টাকা করে তাৎক্ষণিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যাতে করে অন্তত মরদেহটা নিয়ে যেতে পারেন পরিবারের সদস্যরা।
সরকারের প্রতিক্রিয়া
সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এই দুর্ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের পরিবারের সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর রেল কর্তৃপক্ষের তৎপরতা ও জেলা প্রশাসনের তাৎক্ষণিক সহায়তা এই ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।



